ছেলের খুনিরা তৃণমূল ছেড়ে এখন বিজেপি-তে, কিন্তু দলের প্রতি ভালোবাসায় ভোট দিলেন নিহতের পরিবার

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: ছেলেকে খুব করেছে তৃণমূলের লোকেরা। কিন্তু তারাই এখোন বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। তাই ভোট দেবেন না বলেই ঠিক করে ছিলেন বৃদ্ধ মা-বাবা। কিন্তু অবশেষে সব ভুলে দলের প্রতি ভালোবাসার টানে ভোট দিয়ে এলেন স্বামী-স্ত্রী। ৭৭ বছরের বৃদ্ধ রামেশ্বর মুর্মু বললেন, “ আমরা এবার ভোট দেব না বলেই ঠিক করেছিলাম। ছেলের খুনির এখন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। কিন্তু আমরা বিজেপিকে ভালবাসি। তাই এবারও সকাল সকাল গিয়ে ভোট দিয়ে এলাম।”

আরও পড়ুনঃ ৩০এ স্কোর ২৬! বাংলায় প্রথম পরীক্ষার পর ফলাফল নিয়ে প্রেডিকশন শাহের।

বৃদ্ধা শ্রীমতী মুর্মু বললেন, “ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। তাই আমরা সবাই ভোট ঠিকই দিয়েছি।” বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল রানিবাঁধ ব্লকের পুনশ্যা গ্রামের বাসিন্দা এই মুর্মু পরিবার। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমা করা নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ বাধে। আর তাতেই মৃত্যু হয় বিজেপি কর্মী অজিত মুর্মুর। তিন বছর আগে ৪ এপ্রিল, ২০১৮ তে প্রাণ গিয়েছে অজিত মুর্মুর। সেই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন রানিবাঁধের তদানীন্তনের যুব তৃণমূল নেতা বিদ্যুৎ দাস। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিদ্যুৎ গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেন।

বিদ্যুৎ দাসকে দলে নেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। এমনকি তাকে দল থেকে বহিষ্কারের করার দাবিতে কলকাতায় বিজেপির রাজ্য দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ দেখায় নিহতের পরিবার ও এলাকার বাসিন্দারা। সেই ক্ষোভেই এবার ভোট দেবেন না বলেই ঠিক করেছিল নিহত বিজেপি কর্মী অজিত মুর্মুর পরিবার। অবশেষে ভোটের দিন সকালে সব অভিমান ভুলে ভোট দিলেন নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবার। রামেশ্বর মুর্মু জানান, “গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমার ছেলে খুন করা হয়েছে।

অজিতের হত্যা মামলায় যারা অভিযুক্ত তারাই এখন বিজেপি করছে। তাই আমরা ঠিক করেছিলাম ভোট দেব না। তবে বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু-সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব আমাদের বাড়ি এসেছিলেন। এবং ছেলের খুনিদের শাস্তি দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পুত্রশোক কি ভোলা যায়? তবে আমরা সবাই ভোট দিয়েছি।” নিহত ব্যাক্তির ভাই দিলীপ মুর্মু বলেন, “যারা দাদাকে খুন করেছে তারা এখন বিজেপিতে গেছে। এটা আমাদের কাছে খুব খারাপ লাগছে। কিন্তু আমরা তো দলকে ভালবাসি, তাই ভোট দিলাম।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর