দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনে কার্যত একতরফা লড়াইয়ের ছবি স্পষ্ট। গণনা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে বিজেপির ব্যবধান। একসময় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে এখন কার্যত ধস নেমেছে ঘাসফুল শিবিরে। অন্যদিকে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন করে অক্সিজেন জোগানোর ইঙ্গিত দিল সিপিআইএম।
ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার সকাল থেকে চলছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা। শুরু থেকেই এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। ১৯ রাউন্ডের গণনা শেষে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৭৩। প্রায় এক লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।


সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। দলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’ পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ৯১৪ ভোট। ফলে তিনি নেমে গিয়েছেন চতুর্থ স্থানে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতা হারানোর মাত্র কুড়ি দিনের মধ্যেই ফলতায় তৃণমূলের সংগঠন ভেঙে পড়ার ছবি সামনে চলে এসেছে।

দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিআইএম। বাম প্রার্থী শম্ভু নাথ কুর্মী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ২৬৮ ভোট, যা এই কেন্দ্রে দীর্ঘদিন পর বামেদের জন্য উল্লেখযোগ্য ফল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কংগ্রেস প্রার্থীও প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন।
ভোটের দিন থেকেই তৃণমূলের অনুপস্থিতি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। একাধিক বুথে দলের এজেন্ট দেখা যায়নি। গণনাকেন্দ্রেও একই ছবি ধরা পড়েছে। সারাদিন কার্যত অন্তরালেই ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান।


অন্যদিকে বিজেপি শিবিরে শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাস। দলের নেতা-কর্মীদের দাবি, এই ফল শুধু উপনির্বাচনের ফল নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলেরও প্রতিফলন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে দক্ষিণবঙ্গেও বিজেপির জমি আরও শক্ত হচ্ছে বলেই মত গেরুয়া শিবিরের।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ফলতার ফলাফল আগামী দিনে বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণও তৈরি করতে পারে। বিজেপির উত্থানের পাশাপাশি সিপিআইএমের ভোটবৃদ্ধিও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখনও দু’টি রাউন্ডের গণনা বাকি থাকলেও ফল কার্যত স্পষ্ট। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি যে ঐতিহাসিক ব্যবধানে জয় পেতে চলেছে, তা নিয়ে আর খুব একটা সংশয় নেই।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



