পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নকে নতুন করে গতি দেওয়ার বার্তা দিল নতুন বিজেপি সরকার। শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ার পরই শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ শিল্পের উপরই নির্ভর করছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে যাওয়া শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে ফেরানোই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আর সেই তালিকায় সবার আগে রয়েছে টাটা গোষ্ঠীর নাম।
দায়িত্ব নেওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে তাপস রায় বলেন, রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্য পূরণে শিল্প বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন উদ্যোগপতিদের আকৃষ্ট করাই হবে শিল্প দপ্তরের প্রধান অগ্রাধিকার।
বিগত সরকারের শিল্পনীতি নিয়ে সরব হয়েছেন নতুন শিল্পমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প খাতকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। শিল্পবান্ধব পরিবেশের অভাব, তোলাবাজি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বহু শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
তাপস রায়ের দাবি, গত কয়েক বছরে হাজার হাজার ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ ছেড়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে শিল্পমহলের আস্থা ফেরানো জরুরি বলেই মনে করছে নতুন সরকার।
শিল্পমন্ত্রী জানিয়েছেন, টাটা গোষ্ঠীকে ফের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আদানি ও আম্বানিদেরও রাজ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে। তাঁর বক্তব্য, শিল্পপতিরা যাতে কোনও রকম চাপ বা আর্থিক হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করবে সরকার।
এদিকে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্প ও বাণিজ্য মহলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন।
শিল্পপতিদের পক্ষ থেকেও সরকারের কাছে একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়েছে। শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমির ভাণ্ডার বা ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি, জমির ডিজিটাল ম্যাপিং, শিল্পতালুকের পরিকাঠামো উন্নয়ন, দ্রুত ছাড়পত্রের জন্য এক জানালা ব্যবস্থা এবং দক্ষ কর্মী তৈরির প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে নতুন শিল্পনীতির রূপরেখা নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে শিল্পমহলে। বিশেষ করে আগামী ২২ জুনের রাজ্য বাজেটে শিল্পোন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য কী ধরনের ঘোষণা করা হয়, সেদিকেই এখন নজর ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের।
শিল্পায়নকে কেন্দ্র করে নতুন সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করেছেন তাপস রায়। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা সফল হয় এবং পশ্চিমবঙ্গ আবার বড় শিল্প বিনিয়োগের গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে কি না, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক মাসেই।



