বিধানসভায় সই জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। এবার এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। শুধু বর্তমান ঘটনাই নয়, গত দেড় দশকের প্রশাসনিক নথি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অতীতেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে জাল সই ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। তাঁর দাবি, শুধু রাজ্য নয়, দেশের কোনও বিধানসভাতেই এ ধরনের অভিযোগের নজির নেই। তাই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন তিনি।


বিজেপি বিধায়কের কথায়, যদি সত্যিই সই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। তাঁর প্রশ্ন, গত ১৫ বছরে কোনও আমলা, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধায়ক বা সাংসদের নাম ব্যবহার করে অন্য কোনও নথিতেও জাল স্বাক্ষর করা হয়নি তো?
তাপস রায় আরও বলেন, এখন থেকে জনপ্রতিনিধিদেরও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সরকারি বা সাংবিধানিক নথিতে স্বাক্ষর জাল হওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকতে পারে।
তিনি ইঙ্গিত দেন, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনও বিধায়ক নিজের অজান্তে তাঁর নামে স্বাক্ষর করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাঁর দাবি, হাতের লেখা এবং স্বাক্ষরের নমুনা মিলিয়ে দেখলেই অনেক তথ্য সামনে চলে আসতে পারে।


বিতর্কের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি চিঠিকে ঘিরে। জানা গিয়েছে, প্রথমে দলীয় সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত একটি চিঠি বিধানসভায় জমা দেওয়া হলেও তা খারিজ করে দেয় সচিবালয়। পরে বিধায়কদলের বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং সদস্যদের স্বাক্ষর-সহ নতুন নথি জমা দেওয়া হয়।
সেই নথি পরীক্ষা করতে গিয়েই একাধিক স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় বলে অভিযোগ। সূত্রের দাবি, যাঁরা সংশ্লিষ্ট বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না, তাঁদের নামেও স্বাক্ষর পাওয়া গিয়েছে। এরপরই জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসে এবং শুরু হয় তদন্ত।
ইতিমধ্যেই তদন্তকারী সংস্থা একাধিক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্যও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে। কারণ শুধুমাত্র একটি চিঠির সত্যতা নয়, বিধানসভার নথিপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতাও এখন প্রশ্নের মুখে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তার উপরই নির্ভর করবে এই মামলার পরবর্তী রাজনৈতিক ও আইনি পরিণতি।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



