ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনের গণনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ। ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণনাকেন্দ্রে শুরু থেকেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছবি, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান ওরফে ‘পুষ্পা’ নেমে গিয়েছেন চতুর্থ স্থানে, আর দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিআইএম।
রবিবার সকাল আটটা থেকে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হয়। প্রথমে ব্যালট এবং পরে ইভিএম গণনায়ও বিজেপির ধারাবাহিক লিড বজায় থাকে। ২১ রাউন্ডের মধ্যে ১৫ রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি কার্যত একতরফা ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা পেয়েছেন ১,০৩,০৮৯ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মীর ঝুলিতে এসেছে ৩৩,৪১৬ ভোট। কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা পেয়েছেন ৯,০৮৯ ভোট। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান পেয়েছেন মাত্র ৫,১৩৪ ভোট, ফলে তিনি চতুর্থ স্থানে রয়েছেন।
ফলতায় ৬৯ হাজারে এগিয়ে বিজেপি, ১৬ গুণ ভোট বাড়ল সিপিআইএমের, তৃণমূলকে টপকাল কংগ্রেসও

গণনা শুরুর আগেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে তিনি দাবি করেন, ফলতা কেন্দ্র বিজেপির দখলে আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাঁর কথায়, এই ফল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন।
গণনাকেন্দ্রে সকাল থেকেই ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা। বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে চলছে ভোটগণনা। রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনা তৈরি হয়েছে এই খবর ঘিরে যে, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের কোনও এজেন্ট উপস্থিত নেই বলেই সূত্রের দাবি।
ফলতার এই ফলকে শুধুমাত্র একটি উপনির্বাচনের অঙ্ক হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। তাঁদের মতে, দক্ষিণবঙ্গে বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বামেদের ভোটব্যাঙ্কও ফের সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের এই ভরাডুবি আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় বার্তা দিচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
গণনার শেষ পর্যায়ের দিকে এগোতে এগোতে বিজেপির ব্যবধান আরও বাড়ছে। আপাতত ৬৯ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে গেরুয়া শিবির। এখন নজর শেষ রাউন্ডের ফলাফলের দিকে।



