এক ক্লিকের বন্ধুত্ব, আর তার আড়ালেই ভয়ংকর ষড়যন্ত্র। সোশাল মিডিয়ায় পরিচয়ের সূত্র ধরে দুই নাবালিকাকে অপহরণের ছক কষেছিল ভিনরাজ্যের দুই যুবক। শেষমেশ পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা পেল প্রাণ। নদিয়ার চাপড়া থানার পুলিশের রোমহর্ষক অভিযানে হাওড়ার আন্দুলিয়া স্টেশন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হল দুই নাবালিকাকে, গ্রেপ্তার করা হল অভিযুক্তদের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম বিকি কুর্মি ও শিবা কুর্মি। দু’জনই ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। অভিযোগ, প্রথমে ফেসবুকে পরিচয় ও বন্ধুত্ব পাতায় তারা চাপড়া থানার অন্তর্গত আলফা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দুই নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জনের পরই অপহরণের ছক কষে অভিযুক্তরা।


ঘটনাটি সামনে আসে যখন নাবালিকাদের পরিবার চাপড়া থানা-য় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পেতেই তদন্তে নামে পুলিশ। মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে, নাবালিকারা আন্দুলিয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে দুই নাবালিকাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত দুই যুবককে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নাবালিকাদের ভিনরাজ্যে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাই ছিল ধৃতদের। পাচারের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে—এই চক্রে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না এবং অপহরণের নেপথ্যে আসল উদ্দেশ্য কী। অভিযুক্তদের আজ কৃষ্ণনগর আদালত-এ পেশ করা হবে।


এই ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সোশাল মিডিয়ায় অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব বা যোগাযোগ কতটা ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা এই ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। বিশেষ করে নাবালিকাদের ক্ষেত্রে পরিবারকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। মিথ্যা পরিচয়ে অনেকেই ফাঁদ পাতছে—সচেতনতা আর নজরদারিই পারে এমন বিপদ ঠেকাতে।








