নজরবন্দি ব্যুরোঃ মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা, বিজেপি তে যোগ দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। যবনিকা পতন আসন্ন! সামনেই একুশের বিধানসভা। আর এবার কানাঘুষো সত্যি করে রাজ্য মন্ত্রী সভায় ইস্তফা দিলেন নন্দিগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। মমতা মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন তিনি। ছাড়লেন পরিবহম ও সেচ দফতরের দায়িত্ব । মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন শুভেন্দু।চিঠিতে এতদিন রাজ্যবাসীর সেবা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তবে, বিধায়ক পদ ছাড়ছেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট করেন নি তিনি।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান, নন্দীগ্রাম ও বিজেপি-র নেপথ্য কাহিনী।


প্রায় জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন শুভেন্দু। নিজের পাইলট কার ও এসকর্ট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। আপাতত সরকারি কোনও নিরাপত্তা তিনি নেবেন না বলেই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে। গতকাল হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্সের (এইচআরবিসি) চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই এদিন সরকারি সব নিরাপত্তা ছাড়েন শুভেন্দু অধিকারী। শাসক দলের দায়িত্বের পরিবর্তন হবে তা আগেই ইঙ্গিত মিলছিল। এতদিন হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল বুধবার শুভেন্দু অধিকারীর বদলে হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনের চেয়ারম্যানের পদে বসানো হল শ্রীরামপুরের সাংসদকে। কিন্তু হঠাৎ এই সিদ্ধান্তের কারণ কি?

সুত্রের খবর, বুধবার বাকুড়ার জেলার সভা শেষ করে শহরে ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন পরিবহণ ও সেচ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ইস্তফা দেওয়ার একদিনের মাথায় বৃহস্পতিবার সেই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সম্প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কারোর নাম না করে কটাক্ষ করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে মিউনিসিপ্যালটির বাইরে আলু বেচতিস’। অধিকাংশের ধারণা তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করেই এই কথা বলেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখন কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে বলেন, আমাকে এইআরবিসি-র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু নিজেই পদত্যাগ করেছে বলেই আমি শুনেছি। বেশ কিছুদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর দলবদল নিয়ে জল্পনা চলছে রাজনৈতীক মহলে। এই ঘোটনা প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই মনে করছেন, শুভেন্দু তাঁর প্রথম বড় পদক্ষেপটি ইতিমধ্যে নিয়ে ফেলেছেন। এখনও তিনি হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান রয়েছেন। একাংশের মতে পরবর্তীতে তিনি এই পদ থেকে এবং মন্ত্রীসভা থেকেও ইস্তফা দেবেন। শুধু সময়ের অপেক্ষা।


শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থকদের মতে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পদ ছেড়ে কথা বলতে বলেছিলেন, দাদা তা করে দেখিয়ে দিলেন। দাদা প্রমাণ করেছেন যে, তিনি পদের লোভি নন। তিনি রাজ্যের কঠিন সময়ে অতিমারির আবহে সকলের জন্য কাজ করেছেন। সামনের দিন গুলোতেও তিনি সম্মানের সাথে দলে থাকবেন। রাজনৈতিক মহলে এখন সব থেকে বড় জল্পনার বিষয় হল শুভেন্দু অধিকারী কি আদতে তৃণমূলে থাকবেন? না কি তৃণমূল থেকে বেড়িয়ে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের ঝান্ডা হাতে তুলে নেবেন? না তিনি নিজেই পৃথক দল বা মঞ্চ গঠন করবেন?
যবনিকা পতন আসন্ন! সূত্র বলছে শুভেন্দু একাধিক নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে চলছেন। এমনকি কংগ্রেসের একটি হেভিওয়েট পরিবারের সাথেও কথা বলেছেন তিনি! সূত্রের খবর নতুন দল নয় বিজেপি তে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। এদিকে রাজ্য সফরে আসছে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। সূত্রের দাবি নাড্ডার হাত ধরেই বিজেপি-তে রাজকীয় প্রবেশ ঘটতে চলেছে শুভেন্দুর। সূত্র জানিয়েছে আগামী ৩০শে নভেম্বর বিজেপি তে যোগ দেবেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শুভেন্দুর দল ছাড়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। তাদের মতে, কল্যাণ ও শুভেন্দুর মধ্যে যে লড়াই চলছিল তাঁর পড়েও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাঁকুড়া যাত্রা। পাশাপাশা শুভেন্দু অধিকারীর দায়িত্ব কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া। এর থেকেই পরিস্কার দল শ্রীরামপুরের সাংসদের পক্ষেই রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতো কিছুর পরেও কি শুভেন্দু দলে থাকবেন? দলে থাকলে কি তাঁর মর্যাদা বজায় থাকবে?







