নজরবন্দি ব্যুরোঃ কথায় আছে একে রামে রক্ষে নেই সুগ্রিব তার দোসর। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অবস্থা এখন অনেকটা তেমনই। এমনিতেই নজিরবিহীন সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী আর এবার সেই সঙ্কট আরও বাড়ালেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন মণ্ডল। বললেন, তৃণমূল নেতাদের কাছের লোকেদের চাকরি দেওয়ার জন্য অনেক চাপের মুখে কাজ করতে হয়েছে এমনকি শিক্ষক নিয়োগে বেনিয়ম করতে চাপ দিয়েছিলেন পার্থ!
আরও পড়ুনঃ কার নির্দেশে বেআইনি নিয়োগ? পাঁচ ঘণ্টা পার, ম্যারাথন সিবিআই জেরার মুখে পার্থ!


স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন মণ্ডল বলেন, ২০১১ সালের জুন থেকে ২০১৩ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলানোর সময়ে কী ভাবে তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রীরা চাকরির সুপারিশ করে তালিকা পাঠাতেন। ঠিক কতটা চাপের মুখে কাজ করতে হত তাকে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে তাঁকে বসিয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর তখনকার স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে সামনে রেখেই নিয়োগের কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন নিয়োগের ক্ষেরে কোনও আপোষ যাতে না হয়। তখন সমস্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কশিট এবং উত্তরপত্র অনলাইনে দিয়ে দেওয়া হতো স্বচ্ছতা বজায় রাখতে। কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোয়াপধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে নিয়োগে বেনিয়ম করতে বলেন তাঁকে। সেই চাপ ব্রাত্য বসু কখনই তাঁকে দেননি। তার অভিযোগ, স্বজনপোষণ, দুর্নীতি এবং বেনিয়ম করতে না চাওয়ায় বাড়িতে ডেকে তাঁকে অপমান করেছিলেন পার্থ বাবু। পরে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয় তাঁকে।



তাঁর অভিযোগ, ‘‘দিন দিন চাপ বাড়তে লাগল। সেই চাপের কাছে আমরা নতি স্বীকার করিনি। তার পরে এক দিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ডাকলেন। বললেন যে, আপনি ছেড়ে দিন। তখন তিনি তৃণমূলের মহাসচিব ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন, প্রচুর দোর্দণ্ডপ্রতাপ। সহজ ভাবেই বলতে পারতেন। তা হয়নি। তিনি অত্যন্ত দুর্বব্যবহার করেন। আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। দুঃখ নিয়েই আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।’’
নিয়োগে বেনিয়ম করতে চাপ দিতেন পার্থ, বাধ্য করেছিলেন ইস্তফা দিতে! বিস্ফোরক প্রাক্তন SSC চেয়ারম্যান

তবে মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে তাঁর কোন অভিযোগ নেই জানিয়ে চিত্ত্রঞ্জন বলেন, ‘‘ব্রাত্যবাবু এই ব্যাপারে কখনও আমায় কোনও চাপ দেননি। আর মুখ্যমন্ত্রী আমায় তাঁর চেম্বারে ডেকেছিলেন। উনি আমাকে পরিষ্কার ভাষায় বলেছিলেন, কোনও রকমের আপস করবেন না। আপনার সুবিধা মতো বা নিয়মকানুন বাঁচিয়ে রেখে আপনি করে যাবেন।’’







