‘সফল ভারতই পারে বিশ্বকে স্থিতিশীল করতে’—দিল্লিতে স্পষ্ট বার্তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের, ইঙ্গিত মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির

সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে ইউরোপীয় বার্তা—‘সফল ভারতই পারে বিশ্বকে স্থিতিশীল করতে’। মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে ভারত–ইইউ সম্পর্ক নতুন মোড়ে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্ব রাজনীতির অস্থির সময়েই ভারতের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে বড় কূটনৈতিক বার্তা দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য ভারতের গুরুত্ব যে অনস্বীকার্য—তা স্পষ্ট ভাষায় জানালেন উরসুলা ভন ডার লিয়েন। তাঁর কথায়, “একটি সফল ভারতই পারে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, উন্নত ও নিরাপদ করে তুলতে।” এই মন্তব্য শুধু সৌজন্যমূলক নয়, বরং বদলে যাওয়া বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণে ভারতের অবস্থানকে স্বীকৃতি বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে দিল্লির কর্তব্যপথে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সঙ্গে বসে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন উরসুলা। অনুষ্ঠান শেষে সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে পারা আমার জীবনের এক বড় সম্মান। একটি সফল ভারত বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, উন্নত এবং নিরাপদ করে তুলবে—যার সুফল আমরা সকলেই পাব।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতা দিল্লিতে

এ বারের সাধারণতন্ত্র দিবসে কূটনৈতিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব ছিল ইউরোপীয় উপস্থিতি। প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতা—ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্টা। মঙ্গলবার তাঁদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

সূত্রের খবর, এই বৈঠক থেকেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির (FTA) চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা হতে পারে। গত শনিবারই ভারত সফরে আসেন উরসুলা। সফরের আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি নতুন বাজার তৈরি হবে।

‘সব চুক্তির জননী’—ভারত–ইইউ বাণিজ্য সমঝোতা

ভারত–ইইউ বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আশাবাদী নয়াদিল্লিও। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই চুক্তিকে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, এই সমঝোতা শুধু বাণিজ্য নয়—প্রযুক্তি, সবুজ শক্তি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে টানাপড়েনের মাঝেই ইউরোপের বার্তা

ঘটনাচক্রে, এমন এক সময়ে ইউরোপের সঙ্গে ভারতের এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে, যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে দিল্লির বাণিজ্যিক সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে। একাধিক দফা আলোচনা সত্ত্বেও সেই শুল্ক এখনও প্রত্যাহার হয়নি।

অন্য দিকে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সম্পর্কেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতকে ‘স্থিতিশীল শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান যে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, সাধারণতন্ত্র দিবসের মঞ্চ থেকে উরসুলার বক্তব্য শুধু প্রশংসা নয়—তা ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারত–ইউরোপ ঘনিষ্ঠতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত