নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভুবনেশ্বর থেকে আনার পর, আজই পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করবে ইডি। সকালে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তৃণমূলের মহাসচিবকে নিয়ে সরাসরি সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি-র দফতরে আনা হয়। ইডি সূত্রে খবর, অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩টি ডায়েরি। একটিতে উচ্চ শিক্ষা দফতর লেখা। এই ডায়েরিতেই লুকিয়ে রয়েছে রহস্য।
আরও পড়ুনঃ ‘পার্থ বাবু কৌশলে টাকা রেখেছিলেন, ২২ কোটির মালিক আমি নই,’ ইডিকে বললেন অর্পিতা।


তাছাড়াও মন্ত্রীর বাড়িতে অভিনেত্রীর নাম লেখা চিরকূট পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ৩৭ টি ফোল্ডাতে রাখা ২৬০০ পাতার নথি। এছাড়াও পার্থ এবং অর্পিতা যৌথ ভাবে জমি কিনেছিলেন বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে দাবি, অর্পিতা জানিয়েছেন, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে দালালের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হত। সেই টাকা ধাপে ধাপে পৌঁছত সরকারি কর্মচারী, আমলা, নেতা-মন্ত্রীদের কাছে। সেই কারনেই মুখোমুখি জেরা।

ইডির দাবি, অর্পিতা মুখোপাধ্যায় জেরায় জানিয়েছেন এই বিপুল পরিমান টাকা তার নয়। সবই পার্থ বাবুর। ইডি-র অফিসারদের কাছে তিনি দাবি করেছেন, ওই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, বিদেশি মুদ্রা এবং গয়না তাঁর নয়। তাঁর ফ্ল্যাটে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেই সুবাদেই কৌশলে তাঁর ফ্ল্যাটে পার্থবাবু নগদ টাকা, গয়না রেখেছিলেন। তিনি শুধু সম্পর্কের সুবাদে সেই টাকা রাখতে দিয়েছিলেন তাঁর ফ্ল্যাটে!



এদিন সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিমানবন্দরে প্রস্তুত ছিল ইডি-র ৪টি গাড়ি। ছিল কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। তাকে নিয়ে ইডির কনভয় সোজা চলে যায় সিজিও কমপ্লেক্সে, যেখানে আগে থেকেই ছিলেন অর্পিতা। কার্যত ভবলেশহীন মুখ করে হুইল চেয়ারে বসেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
২৬০০ পাতার নথি উদ্ধার, যৌথ নামে সম্পত্তির হদিশ! পার্থ-অর্পিতাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা।

উল্লেখ্য, এসএসসি ‘দুর্নীতি’ মামলায় শিল্পমন্ত্রী তথা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর গ্রেফতারের পর সোমবার নজরুল মঞ্চে বঙ্গসম্মান অর্পণের মঞ্চ থেকে প্রথম বার মুখ খোলেন মমতা। তিনি বলেছেন, ‘‘কেউ অন্যায় করে থাকলে কোর্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক। আমার আইন-আদালতের উপর ভরসা আছে।’’ তবে এই ঘটনা ট্র্যাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন মমতা।








