ভোটের কৌশল ছিনতাই করেছে ইডি’, বিকাল ৪টে থেকে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে তৃণমূল

আইপ্যাক দফতরে ইডি হানাকে ‘গণতন্ত্রের উপর আঘাত’ বলে আখ্যা মমতার, ভোটের কৌশল ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিকাল ৪টে থেকে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের প্রতিবাদ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার রাজনীতিতে বৃহস্পতিবার নতুন করে বিস্ফোরণ ঘটাল সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরে ইডি হানা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ তুললেন— তৃণমূলের ভোটের কৌশল, দলীয় নথি ও ডিজিটাল তথ্য পরিকল্পিতভাবে ‘ছিনতাই’ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এটা শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপরাধ।” এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টে থেকে রাজ্যজুড়ে ব্লক ও ওয়ার্ড স্তরে মিছিলের ডাক দিল তৃণমূল।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সল্টলেকের আইপ্যাক–এর দফতরে তল্লাশি অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। দুপুরে সেখানে পৌঁছে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা দফতরের ভিতরে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। বেরিয়ে এসে বেসমেন্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি, হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতিক কাগজপত্র, পার্টির নথি— সব নিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেবিল ফাঁকা পড়ে আছে। লড়াই করার সাহস নেই বলেই এখন লুট করতে নেমেছে।”

এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই অভিযানকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, একদিকে এসআইআরের নামে ভোটার তালিকা থেকে বাংলার মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে দলের কৌশলগত নথি হাতিয়ে নিয়ে তৃণমূলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “পার্টি অফিসে ঢুকে এভাবে নথি নেওয়া গণতন্ত্রে হতে পারে না।”

এদিন বিজেপির বিরুদ্ধেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মন্তব্য, “বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত আমি জীবনে দেখিনি।” পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দিই, সেটা কি ঠিক হবে?” একই সঙ্গে ঘোষণা করেন, ইডি অভিযান ও আইপ্যাক কর্ণধারকে হেনস্থার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে মিছিল হবে।

শুধু আইপ্যাক দফতর নয়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও ইডির তল্লাশি চলে। খবর পেয়ে লাউডন স্ট্রিটে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। কয়েক মিনিট পরে একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে এসে তিনি বলেন, “ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল। আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি।”

প্রতীকের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ–কে নিশানা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন। প্রতীক আমার দলের ইনচার্জ, ওর ফোন, হার্ড ডিস্ক সব নিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।”

ইডি অভিযান ঘিরে সল্টলেক এলাকায় সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটও বাহিনী বাড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছনোর পর কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত