কয়লা পাচারের আর্থিক নেটওয়ার্কে ফের বড়সড় নড়াচড়া। মঙ্গলবার ভোরে রাজ্যের একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সূত্রের দাবি, পাচারের কালো টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে কোন পথে ঘুরত এবং সেই টাকার ‘প্রোটেকশন মানি’ কারা পেত—এই দু’টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এ দিনের তল্লাশি।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, আসানসোল, বর্ধমান এবং দিল্লি মিলিয়ে মোট ১২টি জায়গায় অভিযান চলছে। সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলি ঘিরে রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে।

দুর্গাপুরে একাধিক স্থানে একসঙ্গে হানা দেয় ইডি-র বিশেষ দল। বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের অম্বুজানগরীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কয়েক দিন আগেই বুদবুদ থানায় পোস্টিং পেলেও এখনও দায়িত্ব নেননি তিনি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। ওই বাড়িতে পৌঁছন সিটি সেন্টার ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত বিশ্বাসও।
এছাড়া দুর্গাপুরের সেপকো টাউনশিপে বালি কারবারি প্রবীর দত্তর বাড়িতে সকাল ছ’টা নাগাদ অভিযান শুরু হয়। সিটি সেন্টার এলাকার অম্বেদকর সরণির একটি বাড়ি, পাশাপাশি পান্ডবেশ্বর ও কাঁকসা থানার অন্তর্গত ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বাইপাস সংলগ্ন একটি বাড়িতেও ইডি-র তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত বালি কারবারিরা অজয় ও দামোদর নদ থেকে বালি তুলে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করত। সরকারি নিয়ম মেনে টেন্ডারের মাধ্যমে বৈধ বালি ঘাট থেকে উত্তোলনের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় অবৈধ বালি উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বালির চালানে জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে—একটি চালান দেখিয়ে একাধিকবার বালি পাচার করা হত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


সূত্রের দাবি, বীরভূমের বালির চালান দেখিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বালি ঢোকানো হত। এই অবৈধ লেনদেন থেকেই বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরে এই আর্থিক লেনদেনের সুত্রপাত খুঁজতেই এ দিনের অভিযান বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।









