ইডি অভিযানের পর টানটান উত্তেজনার আবহে অবশেষে প্রকাশ্যে এল আই-প্যাকের অবস্থান। কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেক অফিসে তল্লাশির ২৪ ঘণ্টা পরে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিজেদের ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করলেও, আইন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ আস্থার বার্তা দিল সংস্থাটি। স্পষ্ট জানানো হল—তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে আই-প্যাক।
বিবৃতিতে Indian Political Action Committee জানায়, বৃহস্পতিবার Enforcement Directorate কলকাতায় সংস্থার সল্টলেক অফিস এবং ডিরেক্টর প্রতীক জৈন-এর লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায়। আই-প্যাকের বক্তব্য, “আমাদের মতো একটি পেশাদার সংস্থার কাছে দিনটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও কঠিন ছিল। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। তবে আমরা আইন মেনে চলেছি এবং সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করব।”
সংস্থা স্পষ্ট করেছে, ইডি-অভিযান সত্ত্বেও তাদের কাজকর্মে কোনও ছেদ পড়বে না। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই ঘটনার কোনও প্রভাব আমাদের দৈনন্দিন পেশাগত দায়িত্ব পালনে পড়বে না। আমরা আমাদের কর্তব্যে অবিচল থাকব।”
একই সঙ্গে নিজেদের পরিচয় ও ভূমিকা ব্যাখ্যা করে আই-প্যাক জানায়, তরুণ প্রজন্মের শক্তি, বিচারবুদ্ধি ও পেশাদার দক্ষতাকে অরাজনৈতিক ভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ভাবনা থেকেই সংস্থার জন্ম। বছরের পর বছর ধরে সেই দর্শন মেনেই তারা কাজ করে চলেছে। আই-প্যাক দাবি করেছে, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই তারা আজ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আই-প্যাক বিভিন্ন মতাদর্শের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পেশাদার পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছে—যার মধ্যে রয়েছে বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, ডিএমকে, ওয়াইএসআর কংগ্রেস ও জেডিইউ। সংস্থার সাফ বক্তব্য, “আমরা কখনও কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি না, কোনও রাজনৈতিক পদেও নেই। আমাদের ভূমিকা কেবলমাত্র পেশাদার রাজনৈতিক পরামর্শ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ইডি অভিযানের জেরে সল্টলেক অফিসে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে শুক্রবার সকালে চিত্র বদলায়। অন্যান্য দিনের মতোই অফিসে কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। সংস্থার তরফে কর্মীদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়, বৃহস্পতিবারের ঘটনার কোনও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে না আই-প্যাকের কাজে।



