I-PAC তল্লাশি সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে সুর চড়াল তৃণমূল। নন্দীগ্রামের সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবির থেকে বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন—“এই তল্লাশি সংক্রান্ত কিছু তথ্য আমাদের হাতেও রয়েছে। যারা সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে মিথ্যা বলছেন, প্রয়োজনে আমরা কনটেম্পট অফ কোর্টের পথে যাব।”
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে—I-PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর বাড়ি ও সংলগ্ন এলাকার সব সিসিটিভি ফুটেজ রাজ্য সরকারকে সংরক্ষণ করতে হবে। সেই প্রসঙ্গেই অভিষেক বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলে অসুবিধা কী? মামলা তো শেষ হয়নি। পরের শুনানিতে আবার লড়াই হবে।”
গত বৃহস্পতিবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) I-PAC-এর অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। ওই দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। ইডির অভিযোগ, তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে। পাল্টা রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ ইডির বিরুদ্ধে চারটি এফআইআর দায়ের করে।
তল্লাশি কেন শুধুই I-PAC-এর কলকাতা অফিসে—এই প্রশ্ন আগেই তুলেছিলেন অভিষেক। এদিন তিনি আরও বলেন, “ইডি আগে হাইকোর্টে মামলা করল, তারপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে গেল কেন? হাইকোর্টে কেস ফাইল করে হঠাৎ এমন কী হল যে সুপ্রিম কোর্টে ফাইল করে হাইকোর্টে অ্যাডজার্নমেন্ট চাইছে—এর জবাব ইডিকেই দিতে হবে।” তাঁর দাবি, ইডি চায় না বিষয়টি হাইকোর্টে শুনানি হোক।
এদিন নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবিরের উদ্বোধন ঘিরেও রাজনৈতিক প্রশ্ন ওঠে। এই কেন্দ্র থেকেই ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের আগে কেন নন্দীগ্রাম—এই প্রশ্নে অভিষেকের জবাব, “আমরা ভোট দেখলে হেরে যাওয়া ৭৭টি আসনেই শিবির করতাম। নন্দীগ্রামের মানুষ নিজেরাই হেল্পলাইনে অনুরোধ করেছিলেন।”
কটাক্ষ ছুড়ে তিনি আরও বলেন, ২০২৬-এ নন্দীগ্রাম জিতলে প্রতিটি ব্লকে ব্লকে স্বাস্থ্য শিবির হবে—এবং “অধিকারী পরিবারের সদস্যরাই এসে চিকিৎসা করবেন।” সব মিলিয়ে I-PAC তল্লাশি মামলা, আদালতের নির্দেশ ও নন্দীগ্রামের রাজনীতি—তিনয়ের টানাপোড়েনে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত।



