আইপ্যাক তল্লাশি-কাণ্ডে বড় স্বস্তি পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআরের উপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের তদন্তও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ফের শুনানি হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর বাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকার যাবতীয় সিসিটিভি ফুটেজ রাজ্য সরকারকে সংরক্ষণ করতে হবে। আদালতের মতে, ভবিষ্যৎ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বার্থে এই ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।
প্রসঙ্গত, আইপ্যাক তল্লাশি সংক্রান্ত ঘটনায় রাজ্যের বিভিন্ন থানায় ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মোট চারটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে দু’টি শেক্সপিয়র সরণি থানায় এবং দু’টি বিধাননগরের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই সমস্ত এফআইআরেই আপাতত স্থগিতাদেশ কার্যকর হল।
এদিন শুনানিতে বিচারপতি পি কে মিশ্র গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর মন্তব্য, “ইডির তদন্ত চলাকালীন রাজ্য পুলিশের হস্তক্ষেপের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।” শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানায়, কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেমন কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, তেমনই কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার স্বাধীন তদন্তেও বাধা দেওয়া চলবে না।
দুই বিচারপতির বেঞ্চ আরও প্রশ্ন তোলে—যদি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা সৎ উদ্দেশ্যে কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তা হলে শুধুমাত্র ‘এটি দলের কাজ’ এই যুক্তিতে কি সেই তদন্ত বন্ধ করা যায়? আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি যাতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালাতে পারে, তা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক কর্তব্য।
সব মিলিয়ে, আইপ্যাক-তল্লাশি ঘিরে কেন্দ্র বনাম রাজ্যের যে আইনি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা আপাতত সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতেই চলবে। ৩ ফেব্রুয়ারির শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।






