ডিএ (DA) ইস্যুর পর এবার রাজ্যের পেনশনভোগীদের বকেয়া এরিয়ার (Pension Arrear) নিয়ে বড় ঘোষণা। ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া হিসেব করে প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ এরিয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। নবান্ন (Nabanna)-এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই তথ্য সামনে আসতেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের মধ্যে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta) এবং অর্থদপ্তরের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ (Bhaskar Ghosh) জানান, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পেনশনভোগীদের বকেয়া এরিয়ারের হিসেব করে আপাতত ৫০ শতাংশ অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বাকি অর্থ পরবর্তী পর্যায়ে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।
ভাস্কর ঘোষের দাবি, শুধুমাত্র পেনশনভোগীরাই নন, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী, বিভিন্ন বোর্ড ও কর্পোরেশনের কর্মী, কলকাতা (Kolkata)-র বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে পেনশনপ্রাপক, ওয়ার্কচার্জ কর্মী এবং হোমগার্ডদের বকেয়া সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-এর নির্দেশ অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দিকেও সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এতদিনেও কেন বকেয়া মেটানো সম্ভব হয়নি? এই বিষয়ে বৈঠকে সরকারি আধিকারিকরা জানান, পুরনো ISMOS পোর্টালে নথিভুক্ত বহু কর্মীর এমপ্লয়ি আইডি পরিবর্তন হওয়া এবং ২০১৫ সালের আগে ব্যাঙ্কের ডিজিটাল তথ্য সম্পূর্ণ না থাকায় তথ্য যাচাইয়ে সময় লাগছে। নতুন পোর্টালে সেই তথ্য স্থানান্তরের কাজও চলছে।
যদিও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি ইতিমধ্যেই সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের আইডি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিরও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা কাটলেই বকেয়া মেটানোর কাজ দ্রুত এগোবে বলে আশাবাদী সংগঠন।
কবে থেকে এই ৫০ শতাংশ এরিয়ার হাতে পাবেন পেনশনভোগীরা, সেই বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনও তারিখ ঘোষণা করেনি রাজ্য সরকার। তবে ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, সরকার শীঘ্রই সময়সূচি জানাবে। একই সঙ্গে তিনি সরকারি কর্মীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যোগ্য কর্মীরা যেন তাঁদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়েই তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।






