রথযাত্রা (Rath Yatra) শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস, স্থাপত্য, আচার-অনুষ্ঠান এবং ভক্তির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। বিশেষ করে ওড়িশার পুরী (Puri)-র রথযাত্রা বিশ্বজুড়ে পরিচিত। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই উৎসবে অংশ নেন। কিন্তু এই উৎসবকে ঘিরে এমন বহু তথ্য রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা।
নিচে রথযাত্রা সম্পর্কে ২৫টি চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরা হল—
১. বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় শোভাযাত্রা
পুরীর রথযাত্রা বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় শোভাযাত্রাগুলির মধ্যে অন্যতম।
২. তিনটি আলাদা রথ তৈরি হয়
প্রতি বছর নতুন করে তিনটি রথ তৈরি করা হয়—শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার জন্য।
৩. রথ পুনরায় ব্যবহার করা হয় না
প্রতি বছর নির্দিষ্ট কাঠ দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন রথ নির্মাণ করা হয়।
৪. নির্দিষ্ট গাছের কাঠ ব্যবহার হয়
মূলত নিম (Daru) ও অন্যান্য নির্ধারিত কাঠ ব্যবহার করে রথ তৈরি করা হয়।
৫. অক্ষয় তৃতীয়ায় শুরু হয় নির্মাণ
রথ তৈরির কাজ শুরু হয় অক্ষয় তৃতীয়া (Akshaya Tritiya) থেকেই।
৬. শতাব্দীপ্রাচীন কারিগর পরিবার
একই বংশের দক্ষ কারিগররা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রথ নির্মাণের কাজ করে আসছেন।
৭. রথের উচ্চতা আলাদা
তিনটি রথের উচ্চতা, চাকার সংখ্যা ও রঙ একে অপরের থেকে আলাদা।
৮. নন্দিঘোষ সবচেয়ে বড় রথ
শ্রীজগন্নাথের রথ নন্দিঘোষ (Nandighosha) সবচেয়ে বড়।
৯. বলভদ্রের রথ তালধ্বজ
বলভদ্রের রথের নাম তালধ্বজ (Taladhwaja)।
১০. সুভদ্রার রথ দর্পদলন
সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন (Darpadalana) বা দেবদলন।
১১. রথ টানাই প্রধান আচার
ভক্তদের বিশ্বাস, রথের দড়ি টানলে পুণ্য লাভ হয়।
১২. রাজাও ঝাঁটা দেন
পুরীর গজপতি রাজা (Gajapati Maharaja) ‘ছেরা পাহাঁরা (Chhera Pahanra)’ অনুষ্ঠানে সোনার ঝাঁটা দিয়ে রথ পরিষ্কার করেন।
১৩. জগন্নাথ মন্দির থেকে গুন্ডিচা মন্দিরে যাত্রা
দেবতারা প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরের গুন্ডিচা মন্দিরে (Gundicha Temple) যান।
১৪. গুন্ডিচা মন্দিরকে মাসির বাড়ি বলা হয়
ভক্তদের মধ্যে এই মন্দির ‘মাসির বাড়ি’ নামেই বেশি পরিচিত।
১৫. উল্টো রথও সমান গুরুত্বপূর্ণ
বাহুড়া যাত্রা (Bahuda Yatra)-য় দেবতারা আবার মূল মন্দিরে ফিরে আসেন।
১৬. সোনাবেশ হয় ফেরার পথে
বাহুড়া যাত্রার পর জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে সোনার অলঙ্কারে সাজানো হয়। একে ‘সোনা বেশ (Suna Besha)’ বলা হয়।
১৭. লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম
প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে কয়েক লক্ষ থেকে কয়েক মিলিয়ন ভক্ত পুরীতে আসেন।
১৮. বিদেশেও পালিত হয়
ইসকন (ISKCON)-এর উদ্যোগে বিশ্বের শতাধিক শহরে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯. মহাপ্রসাদের বিশেষ গুরুত্ব
পুরীর মহাপ্রসাদকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মন্দির রান্নাঘরে প্রস্তুত করা হয়।
২০. নবকলেবর বিশেষ অনুষ্ঠান
নির্দিষ্ট কয়েক বছর অন্তর জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ পরিবর্তনের অনুষ্ঠানকে নবকলেবর (Nabakalebara) বলা হয়।
২১. রথে ওঠার সুযোগ নেই
সাধারণ ভক্তদের রথে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয় না।
২২. কোনও পেরেক ব্যবহার হয় না
রথ নির্মাণে ঐতিহ্যগতভাবে কাঠের জোড় ও বিশেষ কৌশল ব্যবহারের প্রথা রয়েছে; ধাতব পেরেকের ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত।
২৩. রথের রঙেরও তাৎপর্য আছে
প্রতিটি রথের ছাউনি ও পতাকার রঙ আলাদা এবং তার ধর্মীয় প্রতীকী অর্থ রয়েছে।
২৪. রথযাত্রা ইউনেস্কোর ঐতিহ্যের দাবিদার হিসেবে আলোচিত
যদিও এখনও পৃথকভাবে ইউনেস্কো (UNESCO)-র তালিকাভুক্ত নয়, তবে এটি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
২৫. ভক্তির পাশাপাশি সামাজিক মিলনের উৎসব
রথযাত্রায় ধর্ম, জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণ এই উৎসবকে সম্প্রীতির প্রতীক করে তুলেছে।






