ভোটের মুখে বাংলা রাজনীতিতে উত্তাপ আরও এক ধাপ বাড়ল। ইডি-র আইপ্যাক অভিযানের প্রতিবাদে আজ রাজপথে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিনে প্রাক-নির্বাচনী প্রচারে জোড়া কর্মসূচি শাসক শিবিরের—কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন মমতা, আর নদিয়ার তাহেরপুরে সভা করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসকদলের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটমুখী বাংলায় রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা I-PAC-এর দফতর ও কর্ণধারের বাড়িতে Enforcement Directorate-র হানা কোনও সাধারণ তদন্ত নয়। তল্লাশির নামে গুরুত্বপূর্ণ নথি ‘চুরি’ করা হয়েছে বলেই দাবি শাসক শিবিরের। এই কেন্দ্রীয় এজেন্সির ‘অতি সক্রিয়তা’র প্রতিবাদেই আজ যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলে পা মেলাবেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই কর্মসূচি থেকেই ফের বিজেপিকে আক্রমণের সুর চড়াবেন মমতা। তৃণমূলের বক্তব্য, কেন্দ্রের শাসক দল Bharatiya Janata Party-র ইশারাতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কাজ করছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশি চলাকালীনই কর্ণধার প্রশান্ত জৈন-এর লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরেও যান। হাতে ফাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে তাঁকে বেরোতে দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
আইপ্যাকের অফিসে ঢুকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়ে কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “তোমরা নথি চুরি করতেই এসেছ। এটা কী ধরনের অভিযান?”—এই মন্তব্যে আরও তীব্র হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।
অন্যদিকে, নদিয়ার তাহেরপুরে আজ সভা করে প্রাক-নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যাবেন সেই সব বাড়িতে, যেখানে SIR তালিকায় ‘মৃত’ দেখানো হলেও বাস্তবে ব্যক্তিরা জীবিত। পাশাপাশি মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে সামনে রেখে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতেও পুজো দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাহেরপুরে সভা চলাকালীন ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী, যার পাল্টা হিসেবে মতুয়া ইস্যুতে বিজেপিকে আরও তীব্র আক্রমণের পথে হাঁটছে তৃণমূল।
সব মিলিয়ে, “বিজেপি লিখল, ইডি পড়ল”—এই স্লোগানকে সামনে রেখেই আজ রাজ্যজুড়ে আগ্রাসী প্রচারে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক লড়াই আরও ধারালো হয়ে উঠছে।



