নজরবন্দি ব্যুরোঃ নির্বাচনের আগে ফিরে এল সারদা কাণ্ড, সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির তলব কুণালকে। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই ৮ দফা ভোটের দিনক্ষণ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তারই মধ্যে এবার ফাইল খুঁড়ে ফের বেরিয়ে এল সারদা চিটফান্ড কাণ্ড। আর এনফোর্সমেন্ত ডিরেক্টরের (ইডি) অফিসে ফের ডাক গেল রাজ্য শাসকদল তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র কুনাল ঘোষের। প্রসঙ্গত সারদা কেলেঙ্কারিতে প্রথম যাদের নাম জড়িয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কুনাল। সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন ও দেবযানীর গ্রেফতারের পরেই গ্রেফতার হন কুনাল। দীর্ঘ কয়েক বছর জেলেও কাটান তিনি।
আরও পড়ুনঃ দিলীপ-কৈলাশের হাত ধরে পদ্ম শিবিরে নাম লেখালেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী।
২০১৩ সালে গ্রেফতারের পর দীর্ঘদিন জেলেই কাটে কুনালের। তারপর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে কিছুদিন নিস্ক্রিয় থাকলেও রাজ্যের তৃণমূল মুখপাত্র হিসেবে স্বহমহিমায় দেখা যাচ্ছে কুণালকে। বিভিন্ন জায়গায় তিনি সক্রিয়ভাবে দলের জন্য কাজ করছেন। যা রাজ্য বিজেপির মাথাব্যাথার অন্যতম কারন হয়ে উঠেছে। আর তার জন্যই ফের পুরনো ফাইল ঘেঁটে কুণালকে এই তলব বলেই মনে করছে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ এ বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। কেন্দ্রীয় সংস্থা সুত্রে খবর তদন্তে ফের কিছু নতুন তথ্য হাতে আসায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামীকাল সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে কুণালকে ডেকে পাঠিয়েছে তারা। প্রথমবার গ্রেফতারের সময় বিধাননগর থানার ডেপুটি কমিশনারেট ছিলেন অর্ণব ঘোষ। তিনি দাবি করেছিলেন সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে কুনাল।
তারপরেই গ্রেফতার হয়েও জেলের নিভৃতবাসে প্রায় তিন চার বছর কাটে কুনালের। ফিরে এসে তৃণমূলের মুখপাত্র হন তিনি। মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে তলব করা হয়েছে তাকে। সারদাকাণ্ডের আর্থিক কিছু বিষয়ে জেরার জন্যই তাকে ডাকা হয়েছে বলে খবর। যদি তিনি এই তলবে হাজিরা না দেন পরবর্তীতে তাকে দ্বিতীয় নােটিস পাঠানাে হতে পারে বলেও খবর। ইডি সূত্রে খবর, গত সপ্তাহেই তদন্তকারীরা নােটিস পাঠিয়েছিলেন কুণালকে। কিন্তু তিনি আসবেন কি না সে বিষয়ে কোনও জবাব দেননি। এদিন অবশ্য কুণাল জানিয়েছেন তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে যাবেন ও ইডিকে তদন্তে সাহায্য করবেন।
নির্বাচনের আগে ফিরে এল সারদা কাণ্ড, সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির তলব কুণালকে। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সারদাকাণ্ডে কুণালকে ডেকে পাঠানাের মধ্যে এখন নতুন করে ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছেন রাজ্যের শাসক দলের অনেক নেতাই। তাদের ধারনা কুণাল যেহেতু এখন রাজ্য রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ও বিজেপির কাছে বেশ চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছেন তাই তঁাকে ফের বিপাকে ফেলতেই আবারও তলব করা হয়েছে। এখন দেখার ভোটের আগে ফের সারদার জল কতদুর গড়ায়।



