বিধানসভা ভোটের আগে ফের তৎপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়তেই কয়লা পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হলেন দুই ব্যবসায়ী। ইডির জালে ধরা পড়েছেন কিরণ খাঁ ও চিন্ময় মণ্ডল—যাঁদের জেরা করে পাচারচক্রের নতুন লেনদেন ও যোগসূত্রের খোঁজ মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
সোমবার গভীর রাতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর কিরণ খাঁ ও চিন্ময় মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে Enforcement Directorate। ইডি সূত্রের দাবি, জেরার সময় দু’জনের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সেই প্রেক্ষিতেই গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত। জানা যাচ্ছে, ধৃত চিন্ময় মণ্ডল কয়লা পাচার মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত লালা-র ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।
এই গ্রেপ্তারের আগে রাজ্যে কয়লা পাচার তদন্তে নতুন করে গতি আসে। পুরনো একটি মামলায় আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি ঘিরে বিতর্কের পর বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। এরপর কলকাতায় এসে রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ইডি ডিরেক্টর রাহুল নবীন। সেই বৈঠকে কয়লা, বালি-সহ একাধিক ‘হেভিওয়েট’ মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর।
তার পর থেকেই তদন্তের গতি বাড়ায় ইডি। চলতি মাসের ৩ তারিখ আসানসোলের রানিগঞ্জ ও জামুরিয়া-সহ রাজ্যের একাধিক এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। কয়েক জন ব্যবসায়ীর বাড়ি ও গুদামঘর থেকে নথি ও আর্থিক লেনদেনের হদিস মেলে। জামুরিয়ার এক ব্যবসায়ীর গুদামঘর থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা নগদ উদ্ধারের কথাও জানায় তদন্তকারী সংস্থা।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, একই দিনে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ওই মামলায় সোমবার তাঁকে তলব করা হলেও হাজিরা দেননি বলে ইডি সূত্রে খবর। পাশাপাশি তলব করা হয় কিরণ খাঁ ও চিন্ময় মণ্ডলকেও। দীর্ঘ জেরার পরেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


ইডি সূত্রের দাবি, কিরণ খাঁ এক সময় কয়লা মাফিয়া হিসেবে সক্রিয় থাকলেও পরে নিজেকে কয়লা ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। অন্য দিকে, চিন্ময় মণ্ডল পাচারচক্রের গুরুত্বপূর্ণ কড়ি লালা-র ঘনিষ্ঠ। তদন্তকারীদের আশা, এই দুই ধৃতকে জেরা করে কয়লা পাচারের টাকার গন্তব্য, প্রভাবশালী যোগাযোগ এবং চক্রের আরও বড় নাম সামনে আসতে পারে।
ভোটের মুখে এই গ্রেপ্তার রাজ্য রাজনীতিতেও নতুন করে উত্তাপ বাড়াল—তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও বড় চমক অপেক্ষা করছে কি না, সেদিকেই নজর।









