রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ও নজরদারিতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের ভোটে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে আলাদা করে ‘জেনারেল অবজার্ভার’ নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও নির্বাচনী খরচের উপর নজরদারি বাড়াতে পর্যবেক্ষকদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় প্রশাসনিক নজরদারি অনেক বেশি কড়া হতে চলেছে।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট ১৬০ জন জেনারেল অবজার্ভার ছিলেন। তখন এক একজন পর্যবেক্ষককে একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল। কিন্তু এ বার সেই কাঠামো বদলাতে চলেছে। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে জেনারেল অবজার্ভার নিয়োগ করা হতে পারে। এতে নজরদারি আরও সূক্ষ্ম ও কার্যকর হবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
শুধু সাধারণ পর্যবেক্ষকই নয়, নির্বাচনী ব্যয়ের উপর নজর রাখতে ‘এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার’-এর সংখ্যাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় প্রচার ব্যয়, অর্থ লেনদেন এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়গুলির উপর কঠোর নজরদারি রাখাই হবে তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।
তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে। ২০২১ সালের নির্বাচনে রাজ্যে মোট ৩৭ জন পুলিশ অবজার্ভার ছিলেন। কিন্তু এ বার সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। শুধু সংখ্যাই নয়, নিয়োগের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার ভাবনা রয়েছে কমিশনের।
সূত্রের খবর, জেলা বা মহকুমা ভিত্তিক নিয়োগের বদলে এবার বিশেষ অঞ্চল বা নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হতে পারে। এমনকি যেসব কেন্দ্রকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, সেখানে একাধিক পুলিশ অবজার্ভারও নিয়োগ করা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের এই মাইক্রো-পরিকল্পনা থেকেই স্পষ্ট, ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। ভোট ঘোষণার আগেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পাঠিয়েছে কমিশন।
এই তালিকায় মূলত এসডিও পদমর্যাদার বা তার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আগের নির্বাচনে যেখানে ডিএমডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকরাও রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, এ বার সেই পদমর্যাদার কাউকে রাখা হয়নি। পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিনিয়র প্রশাসনিক আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



