পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন শুরু করল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরানোর পর এবার রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকেও বদলে দেওয়া হল। ডিজিপি পদ থেকে সরানো হয়েছে পীযূষ পাণ্ডেকে। তাঁর জায়গায় নতুন ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন সিদ্ধনাথ গুপ্ত। একই সঙ্গে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদ থেকেও সরানো হয়েছে সুপ্রতিম সরকারকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেলেন আইপিএস অফিসার অজয় নন্দ।
নির্বাচন ঘোষণার পর প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার সকালে কমিশনের নির্দেশে পুলিশ প্রশাসনের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও রদবদল করা হয়েছে।
নতুন ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সিদ্ধনাথ গুপ্তকে ডিজি ও আইজিপি (ভারপ্রাপ্ত) পদে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৯৯৫ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অজয় মুকুন্দ রানাডেকে।
এছাড়াও কারা দফতরের শীর্ষ পদেও বদল আনা হয়েছে। ডিজি (কারা) পদে নিয়োগ করা হয়েছে ১৯৯১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার নটরাজন রমেশ বাবুকে।
কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার অজয় নন্দ ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার। এর আগে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করেছেন এবং মাওবাদী দমন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের দায়িত্বও সামলেছেন। এক সময় কলকাতা পুলিশেও গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ-এর প্রথম আইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন অজয় নন্দ।
এর আগে রবিবার রাতেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও সরিয়ে নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে।
উল্লেখ্য, রবিবার বিকেলে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যে এবার দু’দফায় ভোট হবে—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ভোট ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের শীর্ষস্তরে এই ধারাবাহিক রদবদল রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট তাৎপর্য তৈরি করেছে।



