নজরবন্দি ব্যুরোঃ নানান কারণে অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমে অনিদ্রার কারণ অনুসন্ধান করুন। মনোদৈহিক সমস্যার ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানী বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তায় তা দূর করার চেষ্টা করুন। ঘুমের ওষুধ অনিদ্রার সমাধান নয়। সাময়িকভাবে উপকৃত হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি শারীরিক-মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ওমিক্রন, ২৪ ঘন্টায় কোভিডের বলি ১৬২
অনিদ্রার লক্ষণঃ দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকার পরও ঘুম না আসা। রাতে অনবরত হাঁটা চলা করা।তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে যাওয়া ও পরে ঘুম না আসা। এই ধরনের সমস্যা যত বেশি দিন থাকবে তত বেশি স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেবে।
অনিদ্রার কারণে সাধারণত যে সমস্যাগুলি দেখা যায়ঃ অমনোযোগ, অস্থিরতা, স্মৃতি হ্রাস। শক্তি ও অনুপ্রেরণার অভাব। অস্বস্তি, হতাশা ও উদ্বেগ। মাথা-ব্যথা, শরীরে-ব্যথা, গ্যাসের সমস্যা ইত্যাদি। যদি ক্লান্তিবোধ করেন ও ঘুমের সমস্যা কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে অথবা সুসম্পর্কে বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অনিদ্রায় ঘুমের ওষুধ খাচ্ছেন? জানেন কতটা ক্ষতিকর!

অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাবেন কিভাবে? –
ঘুমানোর জন্যে প্রথমে মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোষাক পরুন। ঘরে হালকা আলো জ্বেলে রাখুন।
ঘুমাতে যাওয়ার ১ ঘন্টা আগে থেকে জল পান করা থেকে বিরত থাকুন। সন্ধ্যার পর চা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন।
ঘুমানোর আগে ধূমপান এড়িয়ে চলুন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঝগড়া, বিবাদ, বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। রাতে উত্তেজনাপূর্ণ হরর, ভায়োলেন্স, পরকীয়াপূর্ণ টিভি সিরিয়াল ও মুভি দেখবেন না। এগুলো স্নায়বিক উত্তেজনা, উৎকন্ঠা, অনিদ্রা, দুঃস্বপ্ন ও হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং একই সময়ে জেগে উঠুন। বিছানায় যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ গো-মুখাসন ( যোগ ব্যায়াম ) করুন। এরপর শবাসনে মেডিটেশন বা ধ্যানে সুন্দর কল্পনা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ুন।
নিয়মিত দু’বেলা ধ্যান বা মেডিটেশন একদিকে যেমন আপনাকে স্ট্রেস বা টেনশনমুক্ত করবে, অন্যদিকে মেডিটেশনের ঘুমের টেকনিক আপনাকে নিয়ে যাবে প্রশান্তিময় ঘুমের রাজ্যে।



