পেঁয়াজের রস লাগিয়েও চুল গজাচ্ছে না? ভুল পদ্ধতিই কি ফল না পাওয়ার আসল কারণ!

পেঁয়াজের রস চুলের জন্য উপকারী হলেও ভুল ব্যবহার বা শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চুল পড়া কমাতে বা নতুন চুল গজানোর আশায় বহু মানুষ ভরসা করেন পেঁয়াজের রসের উপর। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ঘরোয়া সৌন্দর্যচর্চার নানা পরামর্শে এই উপাদানকে প্রায় ‘ম্যাজিক রেমেডি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই অভিযোগ করেন, নিয়মিত ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। তাহলে কি পেঁয়াজের রস কাজ করে না, নাকি ব্যবহারের পদ্ধতিতেই কোথাও ভুল থেকে যাচ্ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজের রসে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। এতে থাকা সালফার কেরাটিন উৎপাদনে সহায়ক, যা চুলের গঠন মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি কোয়ারসেটিন ও ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে চুলের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে—পেঁয়াজের রস কোনও অলৌকিক চিকিৎসা নয়। চুল পড়ার মূল কারণ যদি শরীরের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকে, তাহলে শুধুমাত্র মাথার ত্বকে পেঁয়াজের রস লাগিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।

চুল পড়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে। আয়রনের ঘাটতি, প্রোটিনের অভাব, ভিটামিন ডি-এর স্বল্পতা, থাইরয়েড বা হরমোনজনিত সমস্যা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপন—এসবই চুল ঝরে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই সমস্যার উৎস খুঁজে বের করাও সমান জরুরি।

অনেকেই পেঁয়াজ বেটে সরাসরি মাথার ত্বকে লাগিয়ে দেন। কিন্তু এই পদ্ধতি সবসময় উপকারী নাও হতে পারে। পেঁয়াজের আঁশ বা কণা মাথার ত্বকে জমে রোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে, ফলে উল্টে অস্বস্তি বা জ্বালাভাব দেখা দিতে পারে। তাই ব্যবহার করার আগে রসটি ভালোভাবে ছেঁকে নেওয়া প্রয়োজন।

কীভাবে তৈরি করবেন পেঁয়াজের রস?

প্রথমে ২ থেকে ৩টি টাটকা পেঁয়াজ ভালোভাবে বেটে নিন। এরপর নরম কাপড় বা ছাঁকনির সাহায্যে সমস্ত আঁশ আলাদা করে শুধু রস সংগ্রহ করুন।

এরপর সেই রসে ২ ফোঁটা রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল এবং ৫টি লবঙ্গের নির্যাস বা গুঁড়ো মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন। মিশ্রণটি একটি স্প্রে বোতলে ভরে মাথার ত্বকে ব্যবহার করুন। বিশেষ করে যেখানে চুল পাতলা হয়ে গেছে বা টাকের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, সেখানে স্প্রে করলে তুলনামূলকভাবে সহজে প্রয়োগ করা যায়।

এই মিশ্রণ মাথার ত্বকের পরিচর্যায় সহায়ক হতে পারে এবং চুলের গোড়ায় কিছুটা পুষ্টি জোগাতে পারে। তবে এর ফল ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে উপকার মিললেও অন্য কারও ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন নাও দেখা যেতে পারে।

চুলের যত্নে পেঁয়াজের রস একটি সহায়ক উপাদান হতে পারে, কিন্তু একে চুল গজানোর নিশ্চিত সমাধান হিসেবে দেখা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া বা টাকের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর