আদালতে খারিজ স্থগিতাদেশের আর্জি, আজ থেকেই শুরু দুয়ারে রেশন ট্রায়াল

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আদালতে খারিজ স্থগিতাদেশের আর্জি, আপাতত আর কোন সমস্যা রইল না মমতা সরকারের পাইলত প্রজেক্ট দুয়ারে রেশন নিয়ে। সব গুছিয়ে নিয়ে মুল প্রক্রিয়া শুরু হতে কিছু দেরি থাকলেও পরিস্থিতি বুঝে নিতে তিন হাজারের কিছু বেশি দোকান থেকে ট্রায়াল শুরু হবে।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জারি করোনা বিধিনিষেধ, বন্ধই থাকছে লোকাল ট্রেন

তৃতীয় বার ভোট লড়ার আগেই মমতা সরকার বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল দুয়ারে সরকারকে নিয়ে। ভোটের প্রচারে মমতা রাজ্যবাসীকে জানিয়েছিলেন তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরলেই চালু হবে দুয়ারে রেশন প্রকল্প। আর লাইন দিতে হবে না রেশন দোকানের সামনে, বদলে তারাই পৌঁছে যাবে ঘরে। ক্ষমতায় ফিরে মমতা শুরু করেছেন সেই প্রকল্পের কাজ। সরকারের তরফ থেকে নিয়ম নিতির গাইডলাইন থেকে দিনক্ষণ-প্রক্রিয়া সুব শুরু হলেও বাস সেধেছিলেন একগুচ্ছ ডিলার।

এমাসের শুরুতেই দুয়ারে রেশন নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন কিছু ডিলার। তাঁদের বক্তব্য ছিল এভাবে বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়া যায়না। আইন অনুযায়ী রেশন দোকানে এসে মানুষ রেশন নেবেন এটাই নিয়ম। বাড়ি গিয়ে রেশন দিতে হলে ডিলারদেরই গাড়ির খরচ, প্রচারের খরচ এবং সংরক্ষণের খরচ বহন করতে হবে বলে জানিয়েছে সরকার। এই বিপুল খরচ তারা বহন করতে পারবেন না বলে সোজা আদালতে নিয়ে গিয়েছিল মমতার প্রজেক্টকে। যদিও রাজ্য সরকার বারবার জানিয়েছিল এই কাজ সেপ্টেম্বরের জন্য, পরীক্ষা মূলক সময় পর্যন্ত। প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা এবং বাকি সব দিক বিবেচনা করে পরিবহন এবং অন্যান্য খরচের দায় নেবে রাজ্য সরকার।

আদালতে খারিজ ডিলারদের আবেদন, আজ থেকেই ট্রায়াল শুরু মমতার পাইলট প্রোজেক্টের। 

Duare Ration 1

তবুও সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাজ্য সরকারের পাইলট প্রজেক্টের স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন কিছু ডিলার, আজ আদালতে তার শুনানি ছিল। তবে আদালতে খারিজ করা হয়েছে ডিলারদের দুয়ারে রেশন প্রকল্পের স্থগিতাদেশের আর্জি। সমগ্র ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘আইনের ক্ষমতা নির্দিষ্ট নয়। তাতে প্রয়োজনে বদল আনা যায়। সরকার সাধারণ মানুষের কাছে রেশন পৌঁছে দিতে চাইছে। এ ক্ষেত্রে ডিলাররা মধ্যস্থতাকারী। সুবিধাভোগীদের সুবিধার্থে সরকার এই উদ্যোগ নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ এতে উপকৃত হবেন।’’

আদালতে খারিজ স্থগিতাদেশ, আজ থেকেই শুরু হবে ট্রায়াল। যদিও আদালতের রায়ে স্থগিতাদেশ উঠে গেলেও নিজেদের দাবি নিয়ে রয়েছেন ডিলাররা। বাড়ি গিয়ে রেশন দেওয়ার সমস্যা দেখানো হয়েছে একাধিক। দাবি কড়া হয়েছে অতিরিক্ত কর্মী এবং বেশি টাকা। এর পাশাপাশি পণ্য সরবরাহের জন্যে হ্যান্ডলিং চার্জ দাবি করা হয়েছে৷

সব কিছুর পরে খাদ্য মন্ত্রী রথীন ঘোষ জানিয়েছেন,  “মাঠে নেমে আগে কাজ শুরু হোক। তারপরেই তো কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা বোঝা যাবে। শুধু সমস্যাই দেখতে গেলে কোনও কাজ হবে না।”। সঙ্গেই তাঁর বক্তব্য, ‘‘তিন হাজারের কিছু বেশি দোকান থেকে ট্রায়াল হবে। বাড়ি বাড়ি যাবেন রেশন ডিলাররা। দু’জন মামলা করেছেন। সরকার তো করেনি। তাই ট্রায়াল হচ্ছেই। মূল অংশ শুরু হতে দেরি আছে। তার মধ্যে ডিলারদের সঙ্গে তাঁদের দাবি নিয়ে আলোচনা চলবে। আমরা আপাতত দেখে নিতে চাই পরিস্থিতি কেমন।’’ উল্লেখ্য মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন সব জটিলতা কাটিয়ে ভাইফোঁটার পর থেকেই রাজ্যে চালু হোক দুয়ারে রেশন প্রকল্প।

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত