বাংলার শিল্প ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা দিল কেন্দ্রীয় বাজেট। দুর্গাপুরে শিল্প করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাব করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানালেন, পূর্ব ভারতের শিল্প পরিকাঠামোকে নতুন করে চাঙ্গা করতে চাইছে কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঘিরে যে প্রশ্ন উঠছিল পশ্চিমবঙ্গে, বাজেটের এই ঘোষণায় তারই একটি সম্ভাব্য উত্তর মিলেছে বলে মনে করছেন শিল্প ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
রবিবার সংসদে বাজেট বক্তৃতার সময় নির্মলা সীতারমণ জানান, পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক শিল্প করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাব বিবেচনাধীন। ইস্পাত, বিদ্যুৎ ও ভারী শিল্পের পরিকাঠামোয় সমৃদ্ধ দুর্গাপুরকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের শিল্প, উৎপাদন কেন্দ্র, লজিস্টিক হাব এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিল্প করিডর বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুর–আসানসোল শিল্পাঞ্চলে নতুন করে বিনিয়োগের স্রোত আসতে পারে। জাতীয় সড়ক ও রেল যোগাযোগে যুক্ত থাকার ফলে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পূর্ব ভারতের শিল্প সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় যুবসমাজের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য সরকার যেখানে বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে এসেছে, সেখানে দুর্গাপুরে শিল্প করিডরের প্রস্তাব বাংলাকে ঘিরে কেন্দ্রের আগ্রহই স্পষ্ট করছে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। ভোটের আবহে এই ঘোষণা শিল্প উন্নয়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
যদিও বাজেটে এই প্রকল্পের আর্থিক পরিমাণ বা নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও শিল্প মহলের মতে এটি বাংলার শিল্প পুনরুজ্জীবনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এখন নজর থাকবে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় কতটা মসৃণ হয় এবং এই শিল্প করিডর কত দ্রুত বাস্তবের রূপ পায়, তার দিকে।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরে প্রস্তাবিত শিল্প করিডর যদি বাস্তবায়িত হয়, তা হলে তা শুধু একটি প্রকল্প নয়—বরং বাংলার শিল্প মানচিত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।



