নজরবন্দি ব্যুরোঃ আপাতত পদত্যাগ ও পরে দলত্যাগ, ধাপে ধাপে দল ছাড়ার পথে বেসুরো বিজেপি নেতা। রাজ্য রাজনীতিতে দলত্যাগ ও দলবদল যেন এখন জলভাত। যে যখন খুশি দলত্যাগ করে অন্য দলে নাম লেখাচ্ছেন। তবে এমন প্রবণতার সিংহভাগ শাসক শিবির ও প্রধান বিরোধী বিজেপির নেতা কর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। আর এবার নিজের এসসি ,এসটি মোর্চার সভাপতির পদ ছাড়লেন বাগদার বিদায়ী বিধায়ক দুলাল বর।
আরও পড়ুনঃ বহিরাগত ইস্যুতে জবাব, সপ্তম পে কমিশন নিয়ে মোদীকে ত্রিপুরা খোঁচা মমতার।
গতকাল বেশ কয়েকটি আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে বিজেপি। সেখানে দেখা যায় গাইঘাটা কেন্দ্রে শান্তনু ঠাকুরের দাদার সুব্রত ঠাকুরকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। আবার অন্যদিকে বাগদায় বিশ্বজিত্ দাসকে প্রার্থী করেছে দল। প্রসঙ্গত কিছুদিন আগেই বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক বিজেপিতে যোগদান করে তারপর থেকেই প্রার্থী কে হবে শান্তনু ঠাকুর এর শিবিরের মধ্যে কেউ নাকি দুলাল বরের শিবিরের কোন সদস্য তা নিয়ে একটা চাপানউতোর চলছিল। দলের অন্দরে সমীকরণে শান্তনু ঠাকুরের বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত দুলাল বর। কংগ্রেস থেকে প্রথমে তৃণমূল পরে বিজেপিতে যোগদান করেন দুলাল বর।
মুকুল রায়ের হাত ধরেই তিনি গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেন। তারপর থেকেই শান্তনু ঠাকুরের সাথে তাঁর একটা দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই কখনও দলের অন্দরে কখনও কর্মীদের বিক্ষোভে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বকে। বিজেপির প্রার্থী তালিকায় শান্তনু ঠাকুরের পছন্দের লোক না থাকায় শান্তনু ঠাকুরও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তাই মনে করা হচ্ছে শান্তনু ঠাকুরের দাদাকে প্রার্থী করা হয়েছে।আর এই প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই আজ এসসি ,এসটি মোর্চার রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন দুলাল বর। তিনি জানিয়েছেন আপাতত তিনি ইস্তফা দিলেন। ধাপে ধাপে দল ছাড়বেন। তিনি অভিযোগ তোলেন বিজেপি পার্টি এসসি ,এসটি মোর্চার নামে ব্যবসা করছে।
আপাতত পদত্যাগ ও পরে দলত্যাগ, ধাপে ধাপে দল ছাড়ার পথে বেসুরো বিজেপি নেতা। তিনি বলেন এসটি এসসিদের অভাব-অভিযোগ বলতে পারার মতো দলের তরফে এমন কাউকে প্রার্থী করা হয়নি বরং পরিবারতন্ত্র ও অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী দেওয়ার মত মারাত্মক অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচনের মুখে এই পদত্যাগ ফের বিজেপি নেতৃত্বকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলল তা বলাই বাহুল্য।



