নজরবন্দি ব্যুরোঃ বহিরাগত ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সভা থেকে মোদিকে পালটা জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিষ্কার করলেন বাংলায় বহিরাগত কারা। কাঁথির সভা থেকে এদিন প্রধানমন্ত্রী বহিরাগত ইস্যুতে সুর চড়ান। কাঁথির সভা থেকে মোদী প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যে পশ্চিমবঙ্গ পুরো ভারতবাসীকে বন্দে মাতরম-এর মন্ত্র শিখিয়েছে, দিদি, সেই বাংলায় দাঁড়িয়ে বহিরাগত বলছেন?’’ বঙ্কিমচন্দ্রর কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, ‘‘বঙ্কিমচন্দ্র, বলেছেন, আমরা সবাই ভারতমাতার সন্তান। এখানে কোনও ভারতবাসী বহিরাগত নয়। সবাই ভারতমাতার সন্তান।’’ আর মোদীর সভার পরেই বহিরাগত ইস্যুতে পালটা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ যোগীর পুলিশে আপত্তি তৃণমূলের, চিঠি দিয়ে স্পষ্ট জানালো নির্বাচন কমিশনকে
বিষ্ণুপুরের সভা থেকে মোদিকে ফের মিথ্যেবাদী বলে আক্রমণ করেন মমতা। বহিরাগত ইস্যুতে তিনি বলেন, “যাঁরা বাংলায় থাকেন, তিনি রাজস্থানী, গুজরাটি বা যাই হোন না কেন, তাকে আমরা বহিরাগত বলি না। উত্তরপ্রদেশ থেকে যে গুন্ডাদের পাঠানো হচ্ছে গেরুয়া পোশাক পরিয়ে তাঁদের বহিরাগত বলি।” পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, “বাংলায় ভিন রাজ্য থেকে যারা আসে তাঁদের বহিরাগত বলি না। যারা শুধু ভোটের আগে আসে, তাদের বহিরাগত বলি।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর চড়ান মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতেও। গ্যাসের দাম নিয়ে মোদী সরকার কে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। দলত্যাগীদের গদ্দার আখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, “কেউ কেউ অনেক টাকা করেছে। গদ্দাররা সেই কারণে ভয়ে বিজেপির কাছে গিয়েছে।”
মোদীকে মিথ্যেবাদী বলে আক্রমণ করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকে আমি সম্মান করি। কিন্তু এই প্রধানমন্ত্রী এত মিথ্যেবাদী, ভাবা যায় না। গোটা দেশ টাকে বেচে দিচ্ছে।” এদিকে বিজেপি ভোটে টাকা বিলি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “টাকা দিলে নেবেন কি নেবেন না আপনার ব্যাপার। ওটা আপনার টাকা। তবে টাকা নিলেও ভোট দেবেন না। ওরা বলতে পারে, কোথায় ভোট দিচ্ছিস, দেখতে পাব। মিথ্যে কথা। কিচ্ছু দেখতে পাবে না। তাই যদি বলে খরচ দিচ্ছি। ওদের খরচ করে দেবেন। ভোটটা জোড়া ফুলেই দেবেন।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য কাজ হিসেবে বালুচরি শাড়ির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বালুচরি শাড়ি আগে কাগজের মতো ছিল, আমি ওই শাড়ি আরও নরম করার ব্যবস্থা করেছি। বিশ্বের বাজারে আরও কদর বেড়েছে বালুচরির।”
নির্বাচনী ইস্তেহার প্রসঙ্গে বিজেপি কে বিঁধে মমতা বলেন, “সপ্তম পে কমিশনের কথা বলেছে বিজেপি। এদিকে ত্রিপুরায় প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলে দিল।” বিজেপি কে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একের পর এক সরকারি সংস্থার বেসরকারিকরণ হচ্ছে। ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ হচ্ছে। ব্যাঙ্কে টাকা রাখেন তো? নোটবন্দির মতো ব্যাঙ্ক বন্ধ হলে টাকা চলে যাবে আপনার। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মমতা এদিন জানিয়ে দেন তিনিই সব কেন্দ্রের প্রার্থী। মমতা বললেন, ‘‘২৯১ টা সিটে আমাকেই ভোট দেবেন। তবেই তো আপনাদের বিনামূল্যে চাল দিতে পারব। সুবিধা দিতে পারব। আমাকে চাইলে জোড়া ফুলে ভোট দিন।’’ পাশাপাশি ২ শতাংশ হারে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।



