নজরবন্দি ব্যুরোঃ একুশের ভোটে দলীয় ইসতাহারে ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। একাধিক সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন ক্ষমতায় ফিরলেই চালু হবে বাড়িতে বাড়িতে রেশন পৌঁছে দেওয়ার কাজ, প্রতি মাসে আপনার দুয়ারে রেশন পৌঁছাবে নির্দিষ্ট সময়ে। যেমন কথা তেমন কাজ, এই প্রবাদ কে সার্থক করে তৃতীয় বার ক্ষমতায় এসে পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে সেই দুয়ারে রেশন প্রকল্প চালু হয়। কিন্তু চালু হওয়ার পরেই দুয়ারে রেশনে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল কাটোয়ায়।
আরও পড়ুনঃ TMC: সরকারি গ্রন্থাগারে নেই গ্রন্থ, কর্মীসভা করে পার্টি অফিসের রূপ দিল তৃণমূল!
এবার পূর্বস্থলীর দোগাছিয়ায় ভয়াবহ অভিযোগ উঠল পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের রেশনের জিনিস কম দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি। এমন অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দিল এলাকায়। বুধবার সকাল থেকে মাদ্রা গ্রামে চলছিল সরকারি দুয়ারে রেশন বিলি। গ্রাহকদের মাথা পিছু ২ কেজি চাল ও ৩ কেজি আটা দেওয়ার কথা থাকলেও ১০০ গ্রাম চাল ও ৭৫০ গ্রাম আটা কম দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। চাঞ্চল্য দেখা দেয় গ্রাহকদের মধ্যে।
দুয়ারে রেশন প্রকল্পে মাল কম দেওয়া হচ্ছে বলে বুঝতে পারেন এক গ্রাহক। তাঁর অভিযোগ, মাল কম দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সোজা প্রশ্ন করেন রেশন দাতাদের। তখন তাকে রেশন ডিস্ট্রিবিউটরদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি কাউকে না জানাতে। কিন্তু তিনি তা না করে সবাইকে জানিয়ে দেন মাল কম দেওয়ার বিষয়টি। হুলুস্থুলু পড়ে এলাকায়। প্রকাশ্যে আসে দুর্নীতি। খবর যায় কালনার মহকুমা শাসক সুরেশ কুমার জগৎ এর কাছেও।
দাম একই মাল কম, দুয়ারে রেশনে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পূর্বস্থলীর দোগাছিয়ায়

তাঁর কাছে অভিযোগ যায়, রেশনে মাল কম দেওয়ার ফরমান জারি করা হয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে। মহকুমা শাসক বিষয়টি নিয়ে বলেন, “পঞ্চায়ের সমিতি রেশনে মাল কম দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে না। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।” একই অভিযোগ পেয়ে জেলা খাদ্য দফতর অধিকারিক আবীর কুমার বলি বলেন, গ্রাহকদের কোনও ‘অ্যালটমেন্ট’ কম দেওয়া হচ্ছে না। কোন রেশন ডিলার যদি এমন কিছু করেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।



