ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে মধ্যস্থতার দাবি ফের তুলে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাজ্য সফরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ভারত ও পাকিস্তানের সংঘর্ষ আরও কিছুদিন চললে তা পারমাণবিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারত। শুধু তাই নয়, তাঁর দাবি, সেই সংঘাত থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনিই। পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে একাধিক সংঘাত মেটানোর কৃতিত্ব দাবি করে নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার-এর প্রকৃত দাবিদার বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিলডেনহল ঘাঁটি থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ তখন ভয়াবহ আকার নিয়েছিল। তাঁর দাবি, সংঘর্ষে ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল, যেখানে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
ট্রাম্পের কথায়, “ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধ তখন এক সপ্তাহ ধরে চলছিল। ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। পরিস্থিতি পারমাণবিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছিল। আমি হস্তক্ষেপ করেছিলাম বলেই সেই বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাঁর ভূমিকাকে প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য, শেহবাজ শরিফ তাঁকে বলেছেন, তাঁর উদ্যোগে তিন থেকে পাঁচ কোটি মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, প্রকৃত সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারত।
শুধু ভারত-পাকিস্তান নয়, বিশ্বের আরও একাধিক সংঘাত থামানোর দাবিও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং রুয়ান্ডা-সহ মোট আটটি আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “যাঁরা এতদিন নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁদের অনেকের চেয়ে আমি এই সম্মানের বেশি যোগ্য। কারণ আমি একাধিক যুদ্ধ থামিয়েছি। আমার ব্যক্তিত্ব ও আলোচনার কৌশলের কারণেই এই সাফল্য এসেছে।”
ভারত-পাকিস্তান সংঘাত প্রসঙ্গে নিজের পুরনো দাবিও ফের তুলে ধরেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি সংঘর্ষ না থামে, তাহলে উভয় দেশের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তাঁর দাবি, সেই সতর্কবার্তার পরই দুই দেশ যুদ্ধবিরতির পথে এগোয়।
তবে ভারতের অবস্থান এ বিষয়ে আগের মতোই স্পষ্ট। নয়াদিল্লি একাধিকবার জানিয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার ফল। এতে কোনও তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতা বা বাণিজ্যিক চাপের ভূমিকা ছিল না। ট্রাম্পের দাবি ভারত আগেই প্রকাশ্যে নাকচ করেছে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো-কে নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মাচাদোকে ভেনেজুয়েলায় ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ তিনি দেননি। বরং তাঁকে “অসাধারণ মানুষ” বলেই উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নতুন মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। যদিও ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় তাঁর দাবি নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।






