অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনুব্রত এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, বীরভূম জেলার সভাপতির দায়িত্বও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, অনুব্রত মণ্ডলের পাশাপাশি বীরভূমের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা—কাজল শেখ, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিজিৎ সিংহ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা—ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তবে এই তথ্যের বিষয়ে এখনও দলের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
শুক্রবার থেকে তপসিয়ার বোর্ড ক্লাবে ঋতব্রত শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক শুরু হয়েছে। দু’দিনব্যাপী এই বৈঠকে সংগঠনের রাজ্য ও জেলা সভাপতিদের নাম চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানেই বীরভূম জেলার সভাপতির পদে অনুব্রত মণ্ডলের নাম অনুমোদিত হতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
যদিও এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “আমার জ্বর। আগামিকাল কলকাতায় যেতে পারি।” তিনি যোগদান বা সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, গরু পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর অনুব্রত মণ্ডল দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। সেই সময় তাঁকে তৎকালীন তৃণমূল সংগঠনের বীরভূম জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে কোর কমিটি গঠন করা হলেও জেল থেকে ফিরে তিনি কার্যত সক্রিয় রাজনীতিতে আগের মতো ভূমিকা নিতে পারেননি। বিধানসভা নির্বাচনের পরও প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তাঁকে সংগঠনে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এদিকে, তৃণমূলের ভাঙনের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে আসছে। সেই শিবিরে অনুব্রত মণ্ডলের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল। এবার সেই জল্পনাই আরও জোরালো হয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অনুব্রত মণ্ডলের যোগদান এবং বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা লিখিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। ফলে রাজনৈতিক সূত্রে যে দাবি করা হচ্ছে, তার আনুষ্ঠানিক সত্যতা সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।






