রাজ্যের বন্ধ চটকল খুলে দেওয়া নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল শ্রম দফতর। মঙ্গলবার নিউ সেক্রেটারিয়েটে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতিতে হুগলি, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমান জেলার সাতটি জুট মিলের মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে ২০ হাজারেরও বেশি চটকল শ্রমিক আবার কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন।
শ্রম দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে ইন্ডিয়া জুট, হেস্টিংস, গোন্দলপাড়া, এম্পায়ার, লুমটেক্স, শক্তিগড় এবং হাওড়া জুট মিল পুনরায় চালু করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছন মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মিল কর্তৃপক্ষ সাসপেনশন অব ওয়ার্ক প্রত্যাহারের নোটিশ জারি করবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রতিটি জুট মিলে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হবে। এরপর ১৬ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্প ফের সচল করতে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে শ্রম দফতর।
বৈঠকে শ্রম কমিশনারেটের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। শ্রম দফতরের দাবি, একই দিনে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে এতগুলি জুট মিল পুনরায় চালুর রূপরেখা তৈরি হওয়া প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
শিল্প মহলের মতে, জুট শিল্পে উৎপাদন শুরু হলে শুধু শ্রমিকদের কর্মসংস্থানই ফিরবে না, সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহণ ও আনুষঙ্গিক শিল্পেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ মিলের কারণে যে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে শ্রমিক পরিবারগুলি ছিলেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উদ্যোগে হওয়া এই বৈঠকের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। মালিকপক্ষও দ্রুত উৎপাদন স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে। এখন নজর থাকবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মিলগুলি চালু হয় কি না এবং উৎপাদন কত দ্রুত পূর্ণমাত্রায় শুরু হয়।



