সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত হওয়ার পর ভারত-পাকিস্তান (India-Pakistan) সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়ল। পাকিস্তানের এক মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য জল বন্ধ করার চেষ্টা হলে তার জবাব দেওয়া হবে।
সিন্ধু নদীর জল বণ্টন ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার (Attaullah Tarar) এবং জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক (Musadik Malik) সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। সেখানেই মুসাদিক মালিকের একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ইসলামাবাদে (Islamabad) সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দুই মন্ত্রী। ওই সেমিনারে বিভিন্ন দেশের আইন বিশেষজ্ঞ, জলসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে চুক্তির আইনি ও কূটনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) উদ্দেশ করে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত একতরফাভাবে পাকিস্তানের প্রাপ্য জল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এই মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
একই বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার দাবি করেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি কোনও পক্ষ একতরফাভাবে স্থগিত করতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, ভারতের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির মূলনীতির পরিপন্থী। পাকিস্তান এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরারও ইঙ্গিত দিয়েছে।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় ভারত। সেই ঘটনার পর নয়াদিল্লি সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ভারতের বক্তব্য, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি নষ্ট হয়েছে এবং সেই প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান শুরু থেকেই ভারতের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে। ইসলামাবাদের দাবি, সিন্ধু জলচুক্তি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পরিচালিত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং তা একতরফাভাবে স্থগিত করা যায় না। এই ইস্যুতে দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






