এআইসিসির (AICC) সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল (K. C. Venugopal) কলকাতায় এসে তৃণমূল কংগ্রেসকে (Trinamool Congress) তীব্র আক্রমণ করলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলের আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নেই। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির (Bharatiya Janata Party) বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই করতে হলে কংগ্রেসকেই নেতৃত্ব নিতে হবে।
সোমবার কলকাতার বিধান ভবনে (Bidhan Bhavan) প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেনুগোপাল স্পষ্ট বার্তা দেন, রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের দায়িত্ব এখন কংগ্রেসকেই নিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল সেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থায় নেই।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং দীপা দাশমুন্সী (Deepa Dasmunshi)-সহ রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তি আগের মতো নেই। তাই আগামী দিনে কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিজেপির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ আন্দোলনের ডাকও দেন তিনি।
এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক আরও জানান, রাজ্যে কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বহু মানুষ কংগ্রেসে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করছেন। যদিও তিনি স্পষ্ট করে দেন, নতুনদের স্বাগত জানানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থাকা কর্মীদেরই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংগঠনকে আরও কার্যকর করতে একাধিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেন বেনুগোপাল। তাঁর মতে, রাজ্য কংগ্রেসকে লোকসভা কেন্দ্রভিত্তিক কাঠামোয় পুনর্গঠন করা হবে। এতে প্রতিটি এলাকায় নেতৃত্ব আরও সক্রিয় হবে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংগঠনের যোগাযোগও বাড়বে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবিষ্যতের বিধানসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আগামী ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রদেশ নেতৃত্ব চায়, সেই কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi Vadra) উপস্থিত থাকুন। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চলবে বলেও সূত্রের খবর।
ছাত্র-যুবদের আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে ‘ছাত্র কী গুঞ্জ’ নামে মাসব্যাপী একটি কর্মসূচিরও ঘোষণা করা হয়েছে। নিট (NEET) ও টেট (TET) সংক্রান্ত দুর্নীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ১ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গে বড় কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। এরপর ৯ আগস্ট দিল্লিতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে। প্রতিটি জেলা থেকে অন্তত ১০০ জন ছাত্র-যুবকে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেনুগোপাল।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে কলকাতার মৌলালি যুবকেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কংগ্রেস প্রার্থীদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেই বৈঠকে নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।






