হুমায়ুন কবীরের সভা ঘিরে পুলিশের বড় পদক্ষেপ, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর গ্রেপ্তার দুই আয়োজক

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রেজিনগরে (Rejinagar) আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা আরও জোরালো হল। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কড়া সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে জনসভার দুই উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম আমিনুল শেখ এবং গোলাম মোস্তাফা। দু’জনকেই রেজিনগর থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁদের বহরমপুর (Berhampore) জেলা আদালতে তোলা হবে। তদন্তকারীদের দাবি, বিতর্কিত সভার আয়োজনের সঙ্গে দু’জনেরই প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, গোলাম মোস্তাফাই রেজিনগর থানার কাছে ওই জনসভার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সভার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও তিনি ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। অন্যদিকে, আমিনুল শেখও অনুষ্ঠানের অন্যতম সংগঠক হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের বক্তব্য।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ জুন। সেদিন রেজিনগরের কাশীপুর এলাকায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষ করে তাঁর বক্তব্যে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে একত্রিত করার প্রসঙ্গ এবং বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে করা হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিরোধী শিবিরের তরফে কড়া সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, এই ধরনের মন্তব্য সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। এরপর থেকেই প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের।

সোমবার বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, উসকানিমূলক বক্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমে যাঁরা ওই সভার আয়োজন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট বক্তার বিরুদ্ধেও। পাশাপাশি তিনি এটিকেই শেষ সতর্কবার্তা বলেও উল্লেখ করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হন দুই আয়োজক। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, তদন্তে সভা আয়োজন, অনুমতি প্রক্রিয়া এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্য—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে বিতর্কিত জনসভা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের ঘটনায় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর