‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছিল—এবং সেই কারণেই সংঘর্ষবিরতির আবেদন জানাতে বাধ্য হয় ইসলামাবাদ। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এল সুইৎজারল্যান্ডের এক সামরিক গবেষণা প্রতিবেদনে। ভারতের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসের দিনই প্রকাশ্যে আসে এই রিপোর্ট, যা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে গত বছরের ভারত–পাক সামরিক সংঘর্ষের প্রকৃত চিত্র।
রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে সুইৎজারল্যান্ডের সামরিক গবেষণা সংস্থা Center for Military History and Perspective Studies। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৭ থেকে ১০ মে—টানা ৮৮ ঘণ্টার ভারত–পাক সংঘর্ষে আন্তর্জাতিক মহল একটি রাফাল যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই সংঘর্ষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি প্রায় উপেক্ষিত থেকেছে—ভারত কীভাবে পরিকল্পিত ভাবে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চূর্ণ করে দেয়।


ভারতের শর্তেই সংঘর্ষবিরতি
রিপোর্ট অনুযায়ী, সংঘর্ষের মধ্যগগনে ভারত ধাপে ধাপে পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়। ফলে আকাশের নিয়ন্ত্রণ কার্যত চলে যায় ভারতীয় বাহিনীর হাতে। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েই পাকিস্তান সংঘর্ষ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা হারায় এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের শর্ত মেনেই সংঘর্ষবিরতির পথে হাঁটে।
সুইস গবেষণা সংস্থার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলা হয়েছে—এই সংঘর্ষ প্রমাণ করে দিয়েছে যে দক্ষিণ এশিয়ায় বিমানবাহিনীর সক্ষমতার নিরিখে ভারত পাকিস্তানের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে।
পহেলগাঁও হামলা থেকে অপারেশন সিঁদুর
রিপোর্টে ঘটনার পটভূমিও তুলে ধরা হয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে জম্মু–কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যু হয়। তার জবাবে ভারত পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে প্রত্যাঘাত চালায়। ন’টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই প্রত্যাঘাত অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’।


এর পরেই পালটা হামলা শুরু করে পাকিস্তান। ৭ মে সংঘর্ষের প্রথম দফায় পাকিস্তানের আক্রমণে ভারতীয় বাহিনী কিছুটা চাপে পড়ে বলে স্বীকার করা হয়েছে রিপোর্টে। অন্তত একটি রাফাল ও একটি মিরাজ–২০০০ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাকিস্তান সেই ঘটনাকে ‘সামরিক সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরলেও পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যায়।
পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ভাঙার কৌশল
সুইস সংস্থার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের পরবর্তী পর্যায়ে ভারত অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনায় দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার শুরু করে। স্কাল্প ইজি ও ব্রহ্মোসের মতো অস্ত্র দিয়ে পাকিস্তানের রাডার, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলিতে আঘাত হানা হয়। এর ফলেই পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, একবার আকাশের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর পাকিস্তানের পক্ষে সংঘর্ষ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। সেই কারণেই ইসলামাবাদ সংঘর্ষবিরতির জন্য নয়াদিল্লির দ্বারস্থ হয়।
কৌশলগত বার্তা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য
এই গবেষণা রিপোর্ট শুধু অতীত সংঘর্ষের মূল্যায়ন নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তাও বহন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ দেখিয়ে দিয়েছে—আধুনিক যুদ্ধে আকাশের দখল মানেই সমগ্র সংঘর্ষের নিয়ন্ত্রণ। আর সেই জায়গায় ভারত যে কতটা এগিয়ে, তা এই ৮৮ ঘণ্টার সংঘর্ষেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।







