ভারত (India) সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত করার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (Pakistan Peoples Party) চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি (Bilawal Bhutto Zardari) ইসলামাবাদে (Islamabad) এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে ভারতের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে তিনি পাকিস্তানের পরমাণু নীতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেশের জলসম্পদ বা জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে ইসলামাবাদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
মঙ্গলবার ইসলামাবাদে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিভিন্ন দেশের আইনজ্ঞ, জলসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, পাকিস্তান সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আইনি আলোচনার পক্ষেই রয়েছে। তবে দেশের স্বার্থে কোনও ধরনের আপস বা আত্মসমর্পণ করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানান।
নিজের বক্তৃতায় তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন পাকিস্তান সিন্ধু অঞ্চল বা দেশের স্বার্থ ছেড়ে দেবে, তবে তারা পাকিস্তানের ইতিহাস ও জনগণের মনোভাব সম্পর্কে অবগত নন। তাঁর দাবি, সিন্ধু নদকে ঘিরে বহু প্রজন্মের মানুষের জীবন-জীবিকা গড়ে উঠেছে এবং এই প্রশ্নকে পাকিস্তান জাতীয় স্বার্থের অংশ হিসেবেই দেখে।
এরপরই বিলাওয়াল ভুট্টো পাকিস্তানের পরমাণু নীতির প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, যদি পাকিস্তানের জলসম্পদ বা অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়, তবে সেটিকে শুধুমাত্র কূটনৈতিক বিরোধ হিসেবে দেখা হবে না। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এবং পাকিস্তান তার নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাবে।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় ভারত সরকার। তারই অংশ হিসেবে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, ভারত চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
অন্যদিকে, ভারত আগেই আন্তর্জাতিক মহলে জানিয়েছে যে, ১৯৬০ সালে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে ভারতের দাবি, পরবর্তী সময়ে সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি হামলা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির কারণে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনও বিপরীত মেরুতে রয়েছে এবং বিষয়টি কূটনৈতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।






