ব্রিগেডে জনগর্জন সভা থেকে বাংলার ৪২ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যাশা মতই ডায়মন্ড হারবার থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর কেটে গিয়েছে গোটা মাস। কোনও বিরোধী দল প্রার্থী দেয়নি ওই কেন্দ্রে। অবশেষে একমাসের মাথায় বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রার্থী দিল আইএসএফ (ISF Candidate)। নওশাদ সিদ্দিকির নাম নিয়ে জল্পনা থাকলেও টিকিট পেলেন আইনজীবী মজনু লস্কর। নাম ঘোষণা হতেই তৃণমূল প্রার্থীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন ডায়মন্ড হারবারের আইএসএফ প্রার্থী।

আরও পড়ুন: অভিষেকের বিরুদ্ধে লড়তে চেয়েছিলেন, কেন ডায়মন্ড হারবারে টিকিট পেলেন না নওশাদ?
ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন আইএসএফ প্রার্থী আইনজীবী মজনু লস্কর। নাম ঘোষণার পরই তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যিনি প্রার্থী হয়েছেন সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স ৩৬ বছর। আমার বয়স ৪২ বছর। ভাইকে কি দাদা কখনও ভয় পায়?’ ডায়মন্ড হারবারের দুবারের তৃণমূলের সাংসদের সংসদে উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মজনু বলেন, ‘পার্লামেন্টে বেশিরভাগ দিন অনুপস্থিত থাকেন। ডায়মন্ড হারবারের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিয়ে কিছুই বলেননি।’

অভিষেকের স্বাস্থ্যের প্রসঙ্গ নিয়ে আইএসএফ প্রার্থী বলেন, ‘অভিষেকবাবু চোখ নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন। আমি ওর দাদা হিসাবে বলছি ভাল করে চোখের চিকিৎসা করুন। আমেরিকায় যেতে হলে যান। কারণ চোখ গেলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। আপনি আপনার স্বাস্থ্যটা আগে বাঁচান। আমি আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। কথা দিচ্ছি দাদা হিসাবে আপনার পাশে থাকব।’
ডায়মন্ড হারবারে প্রতিদ্বন্দ্বী অভিষেক, নাম ঘোষণা হতেই ‘হেভিওয়েট’ তৃণমূল প্রার্থীকে ভাই সম্বোধন মজনুর
বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে আইএসএফ (ISF)। ডায়মন্ড হারবারে বিরোধী মুখ হিসেবে নওশাদকে দেখা যাবে কিনা তা নিয়ে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে আইনজীবী মজনু লস্করের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপরই কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের কথায়, নওশাদ সিদ্দিকী (Nawshad Siddiqui) দীর্ঘদিন ধরেই ডায়মন্ড হারবারে প্রার্থী হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর দাবি করেছেন। তবে শেষবেলায় এসে তিনি হয়তো বুঝেছেন মুখে এক কথা বলা আর ভোটের ময়দানে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিস্তর ফারাক। তাই হয়তো পিছু হটে গিয়েছেন।



