আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী খোদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সেনাপতি বিবেচনা করা হয় তাঁকে। গত মার্চের শুরুতেই ৪২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছিল তৃণমূল। এরপর কেটে গিয়েছে গোটা মাস, প্রতিদ্বন্দ্বী মুখ পাননি তৃণমূল প্রার্থী। জল্পনায় ছিল একাধিক নাম, তাঁর মধ্যে অন্যতম আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী (Nawshad Siddiqui)। তিনি নিজেই প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারে। তবে শেষ পর্যন্ত তা হল না, কেন লড়তে চেয়েও দলের অনুমতি পেলেন না নওশাদ?



আরও পড়ুন: ভোট আবহে তৃণমূল হিংসা ছড়াচ্ছে না তো? উত্তরবঙ্গের মহিলা বিজেপি কর্মীকে ফোন মোদীর
বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে আইএসএফ (ISF)। ডায়মন্ড হারবারে বিরোধী মুখ হিসেবে নওশাদকে দেখা যাবে কিনা তা নিয়ে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে আইনজীবী মজনু লস্করের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপরই কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের কথায়, নওশাদ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরেই ডায়মন্ড হারবারে প্রার্থী হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর দাবি করেছেন। তবে শেষবেলায় এসে তিনি হয়তো বুঝেছেন মুখে এক কথা বলা আর ভোটের ময়দানে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিস্তর ফারাক। তাই হয়তো পিছু হটে গিয়েছেন। তবে সত্যিই কি তাই! রাজনৈতিক মহলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য কাহিনী।

আইএসএফের রাজ্য কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, ডায়মন্ড হারবারে নওশাদ সিদ্দিকির প্রার্থী হওয়া নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রসঙ্গত, নওশাদ আইএসএফের চেয়ারম্যান, বর্তমান বঙ্গ রাজনীতির ময়দানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ, ২০২১-এর নির্বাচনে চারিদিকে যখন তৃণমূল-বিজেপির (TMC-BJP) মধ্যে লড়াই সীমাবদ্ধ সেখানে দাঁড়িয়ে অন্যতম বিরোধী হিসেবে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলকে হারিয়ে জয়লাভ করেন আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি।


অভিষেকের বিরুদ্ধে লড়তে চেয়েছিলেন, কেন ডায়মন্ড হারবারে টিকিট পেলেন না নওশাদ?

সূত্রে খবর, আইএসএফের রাজ্য কমিটি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে (Assembly Election 2026) পাখির চোখ করেছে। ২৬-এর ভোটে নওশাদ সিদ্দিকিকে মুখ করেই লড়াইয়ে নামতে চায় দল। সেক্ষেত্রে নওশাদ যদি ডায়মন্ড হারবারে প্রার্থী হন তাহলে আইএসএফ ‘লক্ষ্যভ্রষ্ট’ হতে পারে। এই কারণেই আইএসএফ রাজ্য কমিটি তাঁকে অনুমোদন দিতে চায় না। নওশাদ নিজেও জানিয়েছিলেন, তিনি ডায়মন্ড হারবারে লড়াই করতে প্রস্তুত তবে দল সংগঠন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।







