নজরবন্দি ব্যুরোঃ দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্যের করোনা গ্রাফ নিয়ে চিন্তিত সাধারণ মানুষ। চারদিনের কঠোর নিয়মবিধি পালনের পর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ডায়মণ্ড হারবার এলাকার করোনা সংক্রমণ। কলকাতা হাইকোর্টের তরফে গঙ্গাসাগর মেলার অনুমোদন মেলার পর ডায়মণ্ড হারবারের কোভিড গ্রাফ নিয়ে অনেকটা নিশ্চিন্তে আম জনতা। কিন্তু পরিসংখ্যান দেখে তাঁরা এখন নিশ্চিন্তে।
আরও পড়ুনঃ দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ল ২১ শতাংশ, পজিটিভ রেট ৯ শতাংশ
সরকারী রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি ডায়মণ্ড হারবার এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার ছিল ২০ শতাংশ। চার দিনের মাথায় শুক্রবার সেই সংক্রমণের হার উপস্থিত হয়েছে ১২ শতাংশে। সরকারী রিপোর্ট অনুযায়ী করোনার সংক্রমণ রুখতে আলিপুর সদর এবং ডায়মণ্ড হারবার এলাকায় মোট ১৭ টি কনটেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়। এলাকায় এলাকায় চলে জোরকদমে প্রচার। মাস্ক বিলির পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা হয়। বাড়ানো হয়েছে টেস্টের সংখ্য্যাও যার ফলে অনেকতাই রোখা গিয়েছে সংক্রমণ।
শুধুমাত্র কোভিড সচেতনতা বৃদ্ধি নয়, বাড়ানো হয়েছে টিকাকরণের সংখ্যাও। সরকারী রিপোর্টে বলা হয়েছে প্রায় ৩৪ লক্ষ ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি ডোজ নিয়েছেন ১৩,৭৫,৫১১ জন। কোভিড আক্রান্তদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ানো হয়েছে গাড়ির পরিষেবাও। বাজার এলাকাগুলিতে নজরদারি রাখছেন সরকারী আধিকরাও। পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই হাতের বাইরে না যায় সেজন্য বৈঠক চলছে প্রশাসনের তরফ।
সরকারী রিপোর্ট অনুযায়ী ঊর্ধ্বমুখী কোভিড আবহের মধ্যেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে ডায়মণ্ড হারবার প্রশাসন। রাজ্যের অন্যান্য এলাকাগুলির থেকে এই এলাকার করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। রাজ্যের একাধিক এলাকায় যখন সচেতনতার প্রচারে অচেতনতা দেখাচ্ছেন তথাকথিত হেভিওয়েট থেকে শুরু করে সামাজিক দায়িত্বে থাকা অনেকেই। তখন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় বাড়বাড়ন্ত কোভিড কে কার্যত লাগাম পরিয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী এবং চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী সহ পুলিশের একাত্ম উদ্যোগ। এই মুহুর্তে কোভিড নিয়ন্ত্রণে বাংলা কে পথ দেখাচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই এলাকা। তাই একই ফর্মুলায় রাজ্যের অন্যান্য এলাকাগুলিতে করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে উদ্যোগী হচ্ছে প্রশাসন।
চারদিনের কঠোর নিয়মবিধি, কমেছে করোনা সংক্রমণের হার

সম্প্রতি কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে গঙ্গাসাগর মেলা বন্ধের জন্য হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। রাজ্যের তরফে বলা হয় গঙ্গাসাগর, ডায়মণ্ড হারবার সংলগ্ন অন্যান্য এলাকাগুলিতে কোভিড পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। রাজ্যের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে গঙ্গাসাগর মেলার অনুমোদন দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।



