Diabetes: ডায়াবেটিস থাকবে নিয়ন্ত্রণে, ফলের রসেই মিলবে তার কার্যকারিতা

ডায়াবেটিস থাকবে নিয়ন্ত্রণে, ফলের রসেই মিলবে তার কার্যকারিতা
ডায়াবেটিস থাকবে নিয়ন্ত্রণে, ফলের রসেই মিলবে তার কার্যকারিতা

নজরবন্দি ব্যুরোঃ  আট থেকে আশি, অনেকেই ভুগছেন ডায়াবেটিস নিয়ে, এখন প্রায় ঘরে ঘরে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে এই ডায়বেটিস। চিকিত্সকের পরামর্শে তা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিষ্কৃতি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। রক্তে শর্করার মাত্রা সামলাতে আমূল পরিবর্তন ঘটাতে হয় রোজের খাদ্যতালিকায়। রোগীদের জন্য ফলের রস সুপারিশ করা হয় না, এতে রয়েছে হাই সুগার এবং কম ফাইবার। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফলের রসের একটি বিশেষ প্রকার রয়েছে যা কয়েক ঘন্টার মধ্যে রক্তে শর্করাকে প্রশমিত করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ নয়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের, শিক্ষক ছাঁটাই শুরু কমিশনের

টাইপ-২ ডায়াবেটিস হল এমন একটি অবস্থা যেখানে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে না বা শরীর হরমোনের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। এর ফলে কোষগুলি দক্ষতার সাথে গ্লুকোজ শোষণ করতে পারে না এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্যযুক্ত, টাইপ-২ ডায়াবেটিস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে যদি সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ, ভিটামিন সমৃদ্ধ শর্করাহীন এবং কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত ডায়েট অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। যখন কম বা একদম শর্করাহীন ডায়েট অনুসরণ করার কথা আসে, তখনই অবধারিত ভাবে ফলের নাম চলে আসে। ফল ও শর্করা নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে।

যদিও পুষ্টিগুণে ভরপুর, ফলগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফ্রুক্টোজ থাকে, ফল হল প্রাকৃতিকভাবে সংঘটিত শর্করা- যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফলের রস সুপারিশ করা হয় না, কারণ এতে থাকে উচ্চ চিনি এবং কম ফাইবার উপাদান যা অল্প সময়ে রক্তে গ্লুকোজ বাড়াতে পারে। একটি নতুন গবেষণা অনুসারে, ফলের রসের একটি বিশেষ প্রকার রয়েছে যা কয়েক মিনিটের মধ্যে রক্তে শর্করাকে প্রশমিত করতে পারে।

ডায়াবেটিস থাকবে নিয়ন্ত্রণে, ফলের রসেই মিলবে তার কার্যকারিতা
ডায়াবেটিস থাকবে নিয়ন্ত্রণে, ফলের রসেই মিলবে তার কার্যকারিতা

এলসেভিয়ার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, রক্তে শর্করার মাত্রায় ডালিমের রসের স্বল্পমেয়াদী প্রভাবগুলি অন্বেষণ করা হয়েছিল। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়ার তিন ঘণ্টা পর ব্লাড সুগারের ওপর রস গ্রহণের প্রভাবের মূল্যায়ন করেন বিশেষজ্ঞরা। তাজা রসের সরাসরি প্রভাব গবেষণায় প্রদর্শিত হয়েছিল। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৮৫ জন অংশগ্রহণকারীর রক্তের নমুনা ১২ ঘণ্টা উপবাসের পরে এবং তারপরে প্রতি কেজি ওজনের ১.৫ মিলি ডালিমের রস খাওয়ার এক এবং তিন ঘন্টা পরে নেওয়া হয়।

জুস খাওয়ার তিন ঘণ্টা পরে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস দেখা যায়, এমনকি ইনসুলিন প্রতিরোধের প্রমাণ দেয়। শুরুতে যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা কম ছিল তাঁদের ক্ষেত্রে প্রভাবটি আরও শক্তিশালী প্রমাণ হয়েছে। যদিও ফলাফলগুলি পুরুষ এবং মহিলাদের উভয়ের জন্য একই ছিল, তবে এটি বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কম কার্যকর ছিল।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ভালোভাবে পরিচালনার জন্য, কম-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই খাবারগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা মারাত্মকভাবে বাড়ায় না। কিছু সাধারণ উচ্চ জিআই খাবারের মধ্যে রয়েছে পরিশোধিত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ডেজার্ট, চিনিযুক্ত কার্বনেটেড পানীয়, আলু, সাদা রুটি এবং সাদা ভাত। অন্যদিকে, কম জিআই খাবারের মধ্যে রয়েছে গোটা শস্য, ওটস, শাকসবজি এবং ওটসের মতো জটিল কার্বোহাইড্রেট।

খাদ্য তালিকায় নজর রাখার পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে পর্যাপ্ত ওয়ার্কআউট, আড়াই ঘন্টা ব্যায়াম,- ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করতে পারে।

ডায়াবেটিস থাকবে নিয়ন্ত্রণে, ফলের রসেই মিলবে তার কার্যকারিতা

ডায়াবেটিস থাকবে নিয়ন্ত্রণে, ফলের রসেই মিলবে তার কার্যকারিতা
ডায়াবেটিস থাকবে নিয়ন্ত্রণে, ফলের রসেই মিলবে তার কার্যকারিতা

টাইপ-২ ডায়াবেটিসের লক্ষণ:
ঘন ঘন মূত্রত্যাগ
অতিরিক্ত ওজন হ্রাস
ক্ষত যা সহজে নিরাময় হয় না
গোপনাঙ্গের চারপাশে চুলকানি
অত্যধিক তৃষ্ণা