২০২৫ সাল যেন বিশেষ ভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকছে দেবের (Dev)। একের পর এক বহু প্রতীক্ষিত ছবি মুক্তির মুখে, আবার নায়ককে ঘিরে বলিউডে যাওয়ার গুঞ্জনও ছড়াচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিতে। তবে তিনি নিজেই সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন। দেব জানিয়ে দিলেন—কলকাতা ছেড়ে কোথাও যাচ্ছেন না। বরং বাংলা সিনেমাকে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছেন না।
বলিউডে যাচ্ছেন না, বাংলা নিয়েই স্বপ্ন
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দেব স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কখনও বলিনি কলকাতা ছেড়ে মুম্বই যাচ্ছি। বাংলা ভাষায় কাজ করব বলেই তো এত পরিশ্রম করছি। আমার লক্ষ্য বাংলা সিনেমার গুণগত মান বাড়ানো।” তবে কেন ঘন ঘন মুম্বইয়ে যাওয়া? দেব জানান, “ছবির টেকনিকাল কাজের জন্য মাঝেমধ্যে মুম্বইতে যেতে হয়। সেইজন্য সেখানেও একটা সেটআপ তৈরি করছি। কিন্তু সেটা শুধুই পেশাগত প্রয়োজনে। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির জন্য।”


দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিকে উদাহরণ দিলেন দেব
দেব বলেন, “সাউথ ইন্ডাস্ট্রির নায়কেরা তাদের স্থানীয় ভাষার সিনেমা করেই আজ বিশ্বের কাছে পরিচিত। আমিও চাই, বাংলা সিনেমা সেই জায়গায় পৌঁছাক।” তিনি আরও বলেন, “‘খাদান’ থেকে ‘রঘু ডাকাত’, প্রতিটি ছবিতে আমরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। মেকিংয়ে কোনো রকম কম্প্রোমাইজ করছি না।”
মুক্তির অপেক্ষায় একাধিক বিগ বাজেট ছবি
চলতি বছরে মুক্তি পাচ্ছে বহু আলোচিত ‘ধূমকেতু’, যেখানে দীর্ঘ ৯ বছর পর আবারও জুটি বাঁধছেন দেব ও শুভশ্রী। একই সঙ্গে রয়েছে ‘রঘু ডাকাত’—একটি ঐতিহাসিক ডকু-অ্যাকশন ড্রামা, যা পূজোতে মুক্তি পাবে। এই দুই ছবি নিয়েই দর্শকের উন্মাদনা তুঙ্গে। বিশেষ করে ‘রঘু ডাকাত’-এর প্রি-টিজার মুক্তির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার বন্যা বইয়ে গেছে।
প্রজাপতি ২-এর জন্য লন্ডন শুটিং সেরে ফিরলেন দেব
দেবের অন্যতম হিট ছবি ‘প্রজাপতি’-এর সিক্যুয়াল ‘প্রজাপতি ২’ এর কাজও চলতি বছরেই শেষ হচ্ছে। ইতিমধ্যে ছবির শ্যুটিংয়ের একটি বড় অংশ হয়েছে লন্ডনে। বর্তমানে কলকাতায় বাকি অংশের কাজ চলছে। এছাড়াও তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘খাদান’ বাংলা বক্স অফিসে সাড়া ফেলেছিল। বহু বছর পর সেই ছবিতে ধরা দিয়েছিলেন যীশু সেনগুপ্ত ও বোরখা বিস্তা-সহ একগুচ্ছ জনপ্রিয় মুখ।


বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী দেব
দেব জানান, “এই মুহূর্তে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। প্রযোজনা, টেকনোলজি, গল্প—সবদিক থেকে আমরা এগোচ্ছি। আগামী দিনে দর্শক আরও বড় স্কেলে বাংলা ছবি দেখতে পাবেন।” তিনি আরও বলেন, “বাংলা ভাষার প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানে ছবি বানিয়ে প্রমাণ করতে চাই, বাংলা সিনেমাও কিছুতে কম নয়।”








