টলিপাড়ার অন্দরের টানাপোড়েন কি এবার নতুন মোড় নিতে চলেছে? দীর্ঘদিন ধরে টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে সংঘাতের জেরে কার্যত কাজের বাইরে থাকা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে ঘিরে ফের জোরাল চর্চা। শুক্রবার স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে অভিনেতার হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন দেব। তাঁর এক মন্তব্যেই প্রশ্ন উঠছে— অনির্বাণ কি ফের মূলস্রোতে ফিরতে চলেছেন?
শুক্রবার টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে হাজির হয়ে দেব স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অনির্বাণের হয়ে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।” শুধু তাই নয়, তিনি আরও জানান, অনির্বাণ তাঁর ছবিতে থাকুন বা না থাকুন, একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর কাজ করার অধিকার থাকা উচিত। দেবের এই অবস্থান ঘিরেই টলিপাড়ার অন্দরমহলে শুরু হয়েছে জল্পনা— তবে কি ‘দেশু’ জুটির আসন্ন পুজোর ছবিতে দেখা যেতে পারে অনির্বাণ ভট্টাচার্য-কে?


প্রসঙ্গত, অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। কলাকুশলীদের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পর থেকেই তাঁর উপর অলিখিত ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই পরিস্থিতিতে শুক্রবারের বৈঠকে দেব বলেন, “ও খুবই ভালো অভিনেতা। ফেডারেশনের সঙ্গে ওর দূরত্ব তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমি চাই ও অভিনয় করুক। ফেডারেশন যেহেতু টেকনিশিয়ান গিল্ডের মাথা, তাই আমি ফেডারেশন ও স্বরূপ বিশ্বাসকে অনুরোধ করব— দয়া করে ওকে কাজ করতে দেওয়া হোক।”
এই টানাপোড়েনের সূত্রপাত গত বছরের জুন মাসে। অনির্বাণ ভট্টাচার্যের একটি মিউজিক অ্যালবামের ভিডিও শ্যুট হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই শ্যুটিং ভেস্তে যায়। অনির্বাণের অভিযোগ, শ্যুটিংয়ে কোনও টেকনিশিয়ান যোগ দেননি। কেন এই অসহযোগিতা, তা কেউ তাঁকে সরাসরি জানাননি। তবে ফেডারেশন-পরিচালকদের সঙ্গে আইনি দ্বন্দ্বে জড়ানোর পর থেকেই তিনি পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছিলেন অভিনেতা।
দেবের প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনার পর প্রশ্ন উঠছে, অনির্বাণকে ঘিরে টলিপাড়ার এই অচলাবস্থা কি এবার কাটতে চলেছে? নাকি জল্পনা জল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? আপাতত, দেবের বক্তব্যে টলিউডের রাজনৈতিক সমীকরণ যে নতুন করে নাড়া খেল, তা বলাই যায়।









