নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘খুব ভয়ে আছি। আমরা সবাই হস্টেলের রুমে খাবারের জন্য এসেছিলাম। হঠাৎ করে সাইরেন বেজে ওঠায় আবার হস্টেলের বিল্ডিংয়ের নীচে বাঙ্কারে চলে যাচ্ছি। দুহাজার স্কোয়ার ফিটের একটা বাঙ্কার। প্রায় দেড়শ জন থাকছি আমরা। এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারছি না। আর দুদিনের শুকনো খাবার আছে। পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। প্লিজ আপনারা একবার ভারত সরকারকে জানান। আমাদের যাতে এখান থেকে নিয়ে যায়। আমরা বেঁচে ফিরতে চাই।’ বলছিল বেহালার প্রেরণা দত্ত।
আরও পড়ুনঃ ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ফের বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী, কি সিদ্ধান্ত নিলেন নমো?


প্রেরণা ইউক্রেনের জাপ্রজিয়াতে গতবছর ডাক্তারি পড়তে গেছে। বাবা-মা কর্মসূত্রে আফ্রিকায় থাকে। ওর সঙ্গে রয়েছে দুর্গাপুর, বেনাচিতির সুদীপা রায়। এছাড়াও ভারতের বহু ছাত্র-ছাত্রী। খানিকক্ষণ অন্তর আগুনে ঝলকানি, বাতাসে বারুদের গন্ধ আর মিসাইলের শব্দ। বছর উনিশ কুড়ির ছাত্র-ছাত্রীদের হৃদ কম্পন ধরিয়ে রেখেছে। প্রেরণা এবং সুদীপা যখন মোবাইলে কথা বলছিল তখন ওদের উৎকণ্ঠা এবং আকুতি দুটো যেন বারবারই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মনকে ভারাক্রান্ত করছিল।
ওদের বাবা-মা’রা প্রত্যেকেই উদ্বিগ্ন। ডেনিপ্রোতে রয়েছে কসবার অনুসূয়া ভট্টাচার্য। ওখানে এখনো পর্যন্ত রুশ হামলার না হলেও। প্রায় সময় কারফিউ জারি থাকছে। রাস্তায় কেউ বেরোচ্ছে না। মূল সমস্যা খাদ্য এবং অর্থের অভাব। কারণ এটিএম গুলি অকেজো। ওদের কথায় কিভে প্রচন্ড খারাপ অবস্থা। ওখানে যারা ভারতীয়রা রয়েছেন। ভারত সরকার তাদের উদ্ধারের কথা ছিল। এখনও পর্যন্ত কোনো সহায়তা মিলছে না। পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার বর্ডারে কনকনে ঠান্ডায় হাজার হাজার ভারতীয় সীমান্ত পার করবার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিধ্বস্ত ইউক্রেন, আটকে থাকা এক ভারতীয়র হাড়হিম অভিজ্ঞতা
কিন্তু ওই দেশগুলো তাদের সীমান্ত পার হয়ে ঢুকতে দিচ্ছে না। চরম বিপদে পড়েছে ভারতীয়রা। খোলা আকাশের নীচে সেনাদের অত্যাচার সহ্য করেও, এখনও তারা তাকিয়ে ভারত সরকারের দিকে। ওখান থেকে ভারতীয়দের দেওয়া খবর অনুযায়ী,পোল্যান্ডের সীমান্তে ভারতীয়দের ওপর ওখানকার মিলিটারিদের অত্যাচার চলছে। এমনকী মহিলাদের ওপরও অত্যাচার করছে।মাঝে মাঝে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয়রা যে চরম বিপদে কাটাচ্ছে ওখানে, তার ইঙ্গিতে সবাই চিন্তিত।









