নজরবন্দি ব্যুরো: রাজ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। তাই বাতিল হল পুজোয় চিকিৎসকদের ছুটি। স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবছরের প্রায় সাত গুণ বেড়েছে। যা দেখে মাথায় হাত পড়েছে নবান্ন থেকে চিকিৎসকদের। উৎসবের সময় ডেঙ্গি মোকাবিলায় নজরদারিতে যাতে কোনও খামতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর দুর্গাপুজোর সময়ে কর্মীদের ছুটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন: অক্টোবরে ২১ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক, জানে নিন কোন কোন দিন
গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে রাজ্যে ৯৪৪ জন বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, এ সপ্তাহে বাংলায় ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ হাজার ৭৯৮ জন। রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজারের কাছাকাছি। আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। এক সপ্তাহে সেই জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন ৬১৮ জন।
তার পরেই রয়েছে হাওড়া জেলা। সেখানে আক্রান্ত ৪১৯ জন। হুগলিতে ডেঙ্গি আক্রান্ত ৩৫৬ জন। মুর্শিদাবাদে ২৯০ জন। জলপাইগুড়িতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ২১৪ জন। কলকাতায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ২৬৩ জন। উল্লেখ্য ইতিমধ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি হলেন কলকাতার নগরপাল বিনীত গোয়েল।

রাজ্যে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত কমাতে একাধিক বৈঠক করছে নবান্ন। ভার্চুয়াল বৈঠক করা হয়েছে জেলাশাসকদের সঙ্গেও। পুজোর সময় একাধিক জায়গায় জল বা আবর্জনা জমতে পারে। নবান্নের তরফে তৎপরতায় সঙ্গে জায়গাগুলি পরিষ্কার করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাস্তার পাশে আবর্জনার দুর্গন্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই সব দিকেও খেয়াল রাখছেন কলকাতার পুরকর্মীরা।
ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্তিতে পুজোয় ছুটি বাতিল চিকিৎসকদের, জানলো পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর

ইতিমধ্যেই আজ ফেসবুক পোস্ট করে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ডেঙ্গির লাফে এক সপ্তাহেই আক্রান্ত ৪ হাজারের বেশি। মোট আক্রান্ত পার করেছে, ১৫ হাজার।’ ডেঙ্গির পরিসংখ্যান দিয়ে এরপর তিনি বলেন, ডেঙ্গি সংক্রমণ রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাজ্য সরকার। একসপ্তাহে ডেঙ্গিতে সংক্রমিতের সংখ্যা, চার হাজারেরও বেশি। রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা, প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে। সংক্রমণ রুখতে ব্যর্থ রাজ্য সরকার। ডেঙ্গির পরিসংখ্যানও কম করে দেখানো হচ্ছে। বাড়ছে মৃত্যুও। মানুষের প্রাণের মূল্য নেই , এই সরকারের কাছে।’



