দিল্লি বিস্ফোরণে আত্মঘাতী হামলার আশঙ্কা, ধীর গতিতে এসে থেমেছিল একটি গাড়ি

লাল কেল্লা চত্বরে পার্ক করা হুন্ডাই আই-২০ গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। প্রাথমিক তদন্তে আত্মঘাতী হামলার ইঙ্গিত, NIA ও FSL তদন্তে নেমেছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির লালকেল্লা চত্বরের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Delhi Blast) ঘিরে উঠে আসছে আত্মঘাতী হামলার তত্ত্ব। সোমবার সন্ধ্যায় সুভাষ মার্গ ট্রাফিক সিগন্যালে থেমে থাকা একটি হুন্ডাই আই-২০ গাড়িতে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। দিল্লি পুলিশের সূত্র (Delhi Police Source) জানিয়েছে, ঘটনাটি ফিদায়েঁ হামলা (Suicide Attack) হতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ওই গাড়িতে একটি IED বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বসানো ছিল। বিস্ফোরণের ঠিক আগে গাড়িটি ধীরে ধীরে এসে সিগন্যালে থেমেছিল। কিছু সেকেন্ডের মধ্যেই ভয়ঙ্কর শব্দে বিস্ফোরণ হয় এবং গাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়। আশপাশের আরও কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বহু মানুষ আহত হন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ব্যবহৃত গাড়িটি হরিয়ানায় নিবন্ধিত (Haryana Registered Car)। বিস্ফোরণস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি তাজা বুলেটও। ফলে পুলিশ অনুমান করছে, গাড়ির ভেতরে বসে থাকা আততায়ী গুলিও চালিয়ে থাকতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে ‘আত্মঘাতী হামলা’ ঘোষণা করা হয়নি, তবে দিল্লি পুলিশের বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট।

দিল্লির পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা (Delhi Police Commissioner Satish Golcha) জানিয়েছেন, “সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিট নাগাদ লালকেল্লার সামনে একটি গাড়ি রেড সিগন্যালে থামে। গাড়িতেই বিস্ফোরণ ঘটে এবং তার অভিঘাতে আশপাশের যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অনেকে আহত হয়েছেন। সমস্ত সংস্থা, যেমন FSL ও NIA, ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত।”

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং পরিস্থিতির প্রতিটি আপডেট নিচ্ছেন। বিস্ফোরণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-ও অমিত শাহর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নিয়েছেন।

তদন্তে নামল NIA ও FSL টিম
দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL)-এর বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছেন। বিস্ফোরণের ধরণ, ধ্বংসাবশেষের রাসায়নিক বিশ্লেষণ ও গাড়ির নম্বরপ্লেট যাচাই করা হচ্ছে।

NIA কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “IED ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এখন দেখা হচ্ছে, এটি রিমোট-কন্ট্রোলড বিস্ফোরণ ছিল নাকি আত্মঘাতী হামলা।”

বিস্ফোরণস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া CCTV ফুটেজে দেখা গিয়েছে, একটি ধীরগতির গাড়ি সিগন্যালে এসে দাঁড়ায়, তারপরই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটে। ভিডিও ফুটেজটি বিশ্লেষণ করছে দিল্লি পুলিশ ও সাইবার সেল।

রাজধানীজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা (High Alert in Delhi)
ঘটনার পর গোটা দিল্লিজুড়ে হাই অ্যালার্ট ঘোষণা করা হয়েছে। লালকেল্লা, ইন্ডিয়া গেট, মেট্রো স্টেশন ও সরকারি ভবনের আশেপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সন্দেহজনক যানবাহনের উপর নজরদারি শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই এটি আত্মঘাতী হামলা হয়ে থাকে, তবে এটি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে দিল্লির সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতা হতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠনের যোগ আছে কি না।

দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Explosion)-এর তদন্ত চলাকালীন দেশজুড়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। অন্য রাজ্যগুলিতেও, বিশেষ করে কলকাতা, মুম্বই ও হায়দরাবাদে, নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনারের ভাষায়, “এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। বিস্ফোরণের ধরনই বলে দিচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা ঘটানো হয়েছে।”

দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Blast) এখন শুধুমাত্র একটি অপরাধ তদন্ত নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি প্রতিটি সূত্র খতিয়ে দেখছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন কোনও ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত