নজরবন্দি ব্যুরোঃ ধাপার মাঠে পুড়ছে ‘লাশ’! পুড়ছে সহ-নাগরিক, একের পর এক মৃতদেহ আসছে। কারো সঙ্গে আছে পরিবারের কেউ, কারো সঙ্গে কেউই নেই। কিন্তু ‘লাশে’ থিক থিক করছে মহানগরের ধাপার মাঠ। পোড় গন্ধে ভার হয়ে আছে চারপাশ। চারপাশে আগুনের রেশ আর কঠোর নিস্তব্ধতা। কান্না এসে থেমে গেছে করোনার করাল থাবায়। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ধাপায় মৃতদেহ আসছে লাইন দিয়ে। সবাই করোনা আক্রান্ত, কিন্তু সবাই আবার করোনায় মৃত নয়। সরকারের আজব হিসেবে দেহ পুড়ছে একই জায়গায় কিন্তু সরকারি খাতায় নাম উঠছে না করোনা মৃত হিসেবে!
আরও পড়ুনঃ দেশে চরম সংকটের পরিস্থিতিতে মাত্র ১ টাকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার বিলি ব্যবসায়ীর।


কোন জায়গায় মারা যাওয়ার ৮-১০ ঘন্টা পর দেহ নিয়ে আসা হচ্ছে বাড়ি থেকে, গণহারে পোড়ানো হচ্ছে দেহ। যাঁরা পুড়ছেন ধাপার মাঠে, তাঁদের পরিবাররা সকলে জানেন না শেষ মুহুর্তেও করোনায় নাকি স্বাভাবিক ভাবেই চলে গেলেন পরিজন। তবে দাহ-পর্ব সম্পন্ন করতে তাঁদের লাগছে একটা মোটা অঙ্কের টাকা।
সূত্রের খবর মহামারীর এই সংকট কালে মৃতদেহ হাসপাতল থেকে ধাপা পৌঁছতে নিচ্ছে হাজার ১০ টাকা, তার পর ধাপায় প্রবেশের জন্য তিন হাজার টাকা নিচ্ছেন দ্বায়িত্বে থাকা পুরকর্মীরাই। এবং সৎকার করতে বেশ বড় অঙ্কের খেলা চলছে মাঠের মধ্যেই। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, ধাপায় দাহর আড়ালে দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকা বেআইনি রোজগার নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও রাত পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিযুক্ত পুরকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী শববাহী গাড়ির চালক ও খালাসিদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।
করোনায় প্রতিদিনে মারা যাচ্ছেন বহু মানুষ, তার সঙ্গে অন্যান্য কারণেও প্রান যায় দৈনিক আরও বহু মানুষের। কিন্তু এই করনা কালে মিলে মিশে গেছে ধাপায়। কোভিড পজেটিভ সহ যে কোন মৃতদেহ হাসপাতল থেকে ধাপায় নিয়ে যেতেই চাওয়া হচ্ছে নগদ হাজার ১০ টাকা।তার সঙ্গে দাহ কার্য এবং অস্থিবিশেষের জন্য গুনতে হচ্ছে আরও বড় অঙ্কের পরিমাণ।


ধাপার মাঠে পুড়ছে ‘লাশ’! সূত্রের খবর, গণহারে দাহ কার্যের পরিবর্তে একক দাহের জন্য সঙ্গে সঙ্গে চেয়ে বসছেন আরও হাজার হাজার টাকা। কোন ক্ষেত্রে মুখগ্নির জন্যও চাওয়া হচ্ছে এক্সট্রা টাকা। একেই চিকিৎসার খরচ, তার পর শেষ কার্যে এই মোটা অঙ্কের টাকা দিতে নাভিশ্বাস উঠছে শহরের সাধারণ মানুষের। এই বড় মাপের লেনদেনের কথা বাইরে আসতেই পুরসভার এক কর্মী যুক্তি দিয়েছন, “নির্বাচন কমিশন প্রশাসকদের সরিয়ে দিতেই পুরসভা অভিভাবকহীন। কর্মীদের একাংশই এই কাজ করছে।”







