নজরবন্দি ব্যুরো: রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের কথা কে ভুলতে পারে! মৃত্যুর দীর্ঘদিন পরেও একমাত্র ‘প্রিয়’ দিদির দেহ আগলে রেখেছিলেন পার্থ দে। এবার সেই রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া জলপাইগুড়ির কলেজ পাড়ায়। মায়ের পচাগলা মৃতদেহ আগলে রাখলেন মেয়ে অনিন্দিতা কর্মকার। মৃত বৃদ্ধার নাম অঞ্জলি কর্মকার (৬৬)।
আরও পড়ুন: উলটপুরাণ! তৃণমূলের বিক্ষোভ মঞ্চে হাজির বিজেপি বিধায়ক, কী ব্যাপার?
প্রিয়জন হারানোর বেদনা সহ্য করা শুধু যে কঠিন তাই নয়, কোনও কোনও মানুষের কাছে অসহনীয়ও বটে! কারণ, সবার জীবন সমান নয়, সব সম্পর্কের রসায়নও এক নয়। তাই প্রিয় মানুষের মৃত্যু হলেও নিজের কোলছাড়া করতে চান না অনেকেই। হ্যাঁ, সমাজ হয়তো বলবে তাঁরা মানসিক রোগী। কিন্তু শুধু কী তাই? সে যাই হোক, ঘটনাটা কী সেটা জানা যাক।

অনিন্দিতা কর্মকারের বাবা অজিত কর্মকার মারা গিয়েছেন বছর খানেক আগে। এখন মেয়ের জীবনে একমাত্র সম্বল বলতে ছিল মা অঞ্জলি কর্মকার। আর সেই মায়েরই মৃত্যু হয়েছে কিছুদিন আগে। অথচ কাউকে জানাননি অনিন্দিতা। প্রকৃতির নিয়মে পচতে শুরু করে দেহ, গন্ধ ছড়ায় বাতাসে। আর সেই গন্ধেই প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখেন এই কীর্তি, মায়ের দেহ নিয়ে বসে আছে মেয়ে অনিন্দিতা!

ঘটনা চাউর হতেই বাড়িতে পুলিশ আসে। অনিন্দিতা পুলিশকে জানিয়েছেন, বাথরুমে পড়ে গিয়েই তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে। দেহ বাথরুমেই ছিল এতদিন। দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশ অফিসার শ্যামল চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, “মৃত্যু সঠিক কবে হয়েছে তা জানার জন্য ময়না তদন্ত প্রয়োজন। চিকিৎসকরাই এটা বলতে পারবেন। তবে দেহ পচে গিয়েছে”।
প্রতিবেশীরা আবার জানিয়েছেন, বছর খানেক আগে নাকি বাবা অজিত কর্মকারের মৃত্যুর পরেও তাঁর মৃতদেহ এভাবেই রেখে দিয়েছিল পরিবার। তখন অবশ্য বেঁচে ছিলেন অনিন্দিতার মা। ঠিক কী কারণে শব আগলে রাখেন তাঁরা তা এখনও জানা যায়নি। তবে, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারকনাথ দাসের বয়ানে, এই কর্মকার পরিবার পাড়ার কারুর সাথে মিশত না, নিজেদের মতোই থাকত।
কাউন্সিলর আরও বলেছেন, “আমরা হঠাৎ করেই খবরটা পাই যে এই বাড়ি থেকে গন্ধ বেরোচ্ছে। আগের বছর বাবা মারা যাওয়ার পরেও এরকম হয়েছিল। আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশী কারুর সাথে এই পরিবারের সম্পর্ক নেই। বাবার কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছিল তাও এরা প্রতিবেশীদের জানায়নি। এবার মায়ের এরকম হল”। তবে, যাই কারণ হোক না কেন, অনিন্দিতার জীবনে আর কেউ থাকল না।
রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি! জলপাইগুড়িতে মায়ের মৃতদেহ আগলে একমাত্র মেয়ে








