ডিএ কোনও দয়া নয়, আইনি অধিকার—সুপ্রিম কোর্টের এই স্পষ্ট নির্দেশের পরই রাজ্য রাজনীতিতে চাপ বাড়াল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। শীর্ষ আদালতের রায় কার্যকর না হলে রাজ্যজুড়ে নজিরবিহীন আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিলেন মঞ্চের নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, ডিএ-র লড়াই এখন শুধুই বেতন-বকেয়ার প্রশ্ন নয়, এটি বাঙালির অস্মিতার লড়াই।
বৃহস্পতিবার ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পক্ষেই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্র–এর বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অন্তত ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ এবং এরিয়ার সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।


রায় ঘোষণার পরই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ আক্রমণাত্মক সুরে রাজ্য সরকারকে বার্তা দেন। তিনি বলেন, “পঞ্চম পে কমিশনের ডিএ নিয়ে আমাদের এই দীর্ঘ লড়াই। সুপ্রিম কোর্ট ২৫ শতাংশ ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্য সরকার যদি এই রায় মানতে গড়িমসি করে, তাহলে আমরা বড় আন্দোলনে নামব।”
ভাস্কর ঘোষ আরও জানান, বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ মেটানোর সময়সীমা ঠিক করতে গঠিত কমিটি রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আগামী ১৫ মে রিপোর্ট জমা দেবে। সেই দিনই সুপ্রিম কোর্টে ফের শুনানি হবে। আদালতই ঠিক করবে, কবে এবং কীভাবে বাকি ডিএ দেওয়া হবে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দাবি, এই আন্দোলন শুধুমাত্র ডিএ বাড়ানো বা বকেয়া মেটানোর জন্য নয়। ভাস্করের কথায়, “এটা এ রাজ্যের প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষের লড়াই। অন্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার কর্মচারীদের বেতন অনেক কম। এই আন্দোলন বাঙালির জাতিসত্তা ও অস্মিতার লড়াই।”


ডিএ মামলার রায়ের পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য ডিএ দেওয়া হবে।”
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ডিএ ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও কর্মচারী সংগঠনের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।









