নজরবন্দি ব্যুরো: ডিএ ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। শুক্রবার পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূকে মেল করেছেন। কয়েক হাজার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের স্বাক্ষর রয়েছে এই চিঠিতে। হয় বকেয়া ডিএ দেওয়া হোক নয়তো স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর করা হোক, এই আবেদন করা হয়েছে ওই চিঠিতে।
আরও পড়ুন: তোষাখানা মামলায় ৩ বছরের জেল, ৫ বছর ভোটে লড়তে পারবেন না ইমরান
বকেয়া ডিএ এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে ২১১ দিন ধরে আন্দোলন করছে সরকারী কর্মচারীদের একাংশ। একাধিক দাবি নিয়ে শহীদ মিনারের সামনে অবস্থানে বসেছে সরকারী কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমন ও শিক্ষামন্ত্রীকেও চিঠি পাঠিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। দাবি পূরণে গত এপ্রিল মাসের ১০ ও ১১ তারিখ দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়ে ধর্নাতে বসেছিলেন তাঁরা। রাষ্ট্রপতিকে মেল মারফত দেওয়া চিঠিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে বলা হয়েছে, “নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ক্রমেই উর্ধ্বমুখী। বাড়তি হিসেবে যোগ হয়েছে বার্ধক্যের চিকিৎসা-ওষুধের খরচ। সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া ডিএ পাওয়া তো কর্মচারীদের নৈতিক অধিকার। হকের সেই পাওনা টাকা যদি সরকার একান্তই না দিতে চায় তাহলে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন গ্রহণ করুক।’

যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের তরফে জানা যায়, “বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ ৩৯ শতাংশ। রাজ্য সরকার সেখানে মাত্র ৩ শতাংশ দিতে চাইছে। যেন ভিক্ষে দিচ্ছে। এর প্রতিবাদেই তো আন্দোলন। গুরুতর সমস্যায় রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা। একপ্রকার বাধ্য হয়েই রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন অনেকেই।” আরও জানানো হয়, “চলতি বাদল অধিবেশনে বিধানসভা অভিযান করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আজ আচমকা বিধানসভা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই আপাতত এই কর্মসূচি স্থগিত রাখা হচ্ছে।” জানা গিয়েছে, পরবর্তী কর্মসূচি স্থির করে আগামী সোমবার বৈঠকে বসতে চলেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

উল্লেখ্য, বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সরকারী কর্মচারীদের একাংশ। ওই মামলায় গত মে মাসে রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। রাজ্যকে তিন মাসের সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতে মামলা করে রাজ্য সরকার। তবে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে দু পক্ষই। যদিও সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, “মামলাটির দীর্ঘ শুনানি প্রয়োজন। তাই শুনানির জন্য নির্দিষ্ট দিন ঠিক করা হবে।”
DA ইস্যুতে সুর চড়ালেন আন্দোলনকারীরা, রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি




